০১ অগাস্ট ২০২৬, শনিবার, ০১:২৩:৪৩ অপরাহ্ন
গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ ভিডিও বার্তা মোদির
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৮-২০২৬
গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ ভিডিও বার্তা মোদির

জন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।




শুক্রবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোদি বলেন, ‘গালিগালাজ কখনো কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। পথভ্রষ্ট তরুণদের শাস্তি নয়, সঠিক পথ দেখানোই সমাজের দায়িত্ব।’



মোদি বলেন, ‘জন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখেছে। কিছু পথভ্রষ্ট তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। আমাকে গালিগালাজ করা হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও অপমান করা হয়েছে।’



প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত ২৩ জুলাই জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এক ২৫ বছর বয়সী নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।



তবে এ ঘটনায় প্রতিশোধ বা কঠোর অবস্থানের পরিবর্তে ক্ষমাশীলতার বার্তা দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘গালিগালাজ কখনো কোনো সমাধান নয়। পথভ্রষ্টদের পথ দেখাই। আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি। ভারতের জন্য কাজ করি।’



তিনি আরও বলেন, ‘শৈশবে মানুষ ভুল করে, আবার সেই সময়ই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকে। তরুণ বয়সের অর্থই হলো শেখার সুযোগ। সমাজে ক্ষোভ রয়েছে, আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এসব সন্তানকে আপন করে নেওয়ার এবং তাদের সঠিক পথ দেখানোর। তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। তাদের পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। শাস্তি দেওয়া, আদালতে টেনে নেওয়া কিংবা হয়রানি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজের কাছেও আমার অনুরোধ, আমার এই কথাকে গ্রহণ করুন। গালিগালাজ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। যারা পথ হারিয়েছে, তাদের পথ দেখাই। আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি। ভারতের জন্য কাজ করি।’



অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তর প্রদেশের নয়ডার দ্রুতগতির সড়ক থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় শূন্য এজাহার হিসেবে মামলা নেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থল দিল্লিতে হওয়ায় তদন্তের জন্য সেটি দিল্লির সংসদ সড়ক থানায় পাঠানো হয়েছে।



এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে কেবল বক্তব্যের কারণে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার মতে, আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।


শেয়ার করুন