২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর। নতুন দায়িত্ব নিয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপারের চেয়ারে বসেন দক্ষ, পেশাদার ও মানবিক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। দায়িত্ব নিয়েই তিনি যে অঙ্গীকার করেছিলেন, ৯ মাসের মাথায় এসে সেটিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। যোগদানের পর থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয় মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জিরো টলারেন্স নীতির কারণে গত ৯ মাসে জেলায় মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সঙ্গে আমূল বদলে গেছে থানার চেহারা ও পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা। পুলিশ সুপারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও মাঠ পর্যায়ের কঠোর তদারকিতে রাজশাহী জেলায় গত ৯ মাসে পরিচালিত হয়েছে কয়েকটি সফল অভিযান। সীমান্তবর্তী এলাকা গোদাগাড়ী, বাঘা চারঘাট ও তানোরে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে টানা অভিযান। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা। গ্রেপ্তার হয়েছে মাদক কারবারের মূল হোতারা। বন্ধ হয়েছে স্কুল-কলেজের সামনের মাদক বেচাকেনা।
মহাসড়ক ও হাট-বাজারে রাতের টহল জোরদার। এতে ছিনতাই কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এ ছাড়া অনলাইন প্রতারণা, কিশোর গ্যাং, অবৈধ অস্ত্র ও যানবাহন শৃঙ্খলা নিয়েও তার নির্দেশনায় চলছে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ অভিযান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান যোগদানের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সেবার মানে। তার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল প্রতিটি থানার ওসিকে হতে হবে মানবিক, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব। তার এই মানবিক নেতৃত্বের ফলেই আজ রাজশাহী জেলার ৮টি থানা হয়ে উঠেছে জনগণের আস্থার জায়গা। এখন রাজশাহীর কোন থানায় গেলে ৫ মিনিটেই জিডি করা যায়। হয়রানি নেই, দালাল নেই, বৈষম্য নেই। বাঘা থানায় জিডি করতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন, আগে সারাদিন লাগত। এখন ৫ মিনিটেই কপি হাতে পেলাম। ওসি সাহেব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করিয়েছেন। চারঘাট থানার জাহানারা বেগম, (৫৩) বলেন, থানায় বলার ২ ঘণ্টার মধ্যে নাতিকে খুঁজে এনে দিয়েছে। এমন মানবিক পুলিশ আগে দেখিনি। পুঠিয়ার রুহুল আমিন, (৬৫) ও দুর্গাপুরের আয়েন উদ্দিন সরদার, (৫২) বলেন, আগে থানায় গেলে ওসিরা মুখের দিকে তাকাতো না। এখন আগে বসতে বলে, চা খাওয়ায়, তারপর সমস্যার কথা শুনে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়। এখন থানায় গেলে সম্মান পাই। এটা শুধু সম্ভব হয়েছে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান স্যারের দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট সেবা’ এবং ‘জনবান্ধব পুলিশ’ গড়ার যে লক্ষ্য, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের নেতৃত্বে রাজশাহী জেলা পুলিশ এখন সেটির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজে প্রতি সপ্তাহে থানা পরিদর্শন করছেন, সদস্যদের মানবিক আচরণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বিট পুলিশিং, নারী-শিশু সেল ও কমিউনিটি পুলিশিংকে তিনি নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছেন। তার কঠোর মনিটরিং ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের কারণেই আজ রাজশাহী জেলা পুলিশের সুনাম চারদিকে। রাজশাহী জেলাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের এই পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও মানবিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় রাজশাহী খুব দ্রুতই দেশের ‘নিরাপদ ও জনবান্ধব জেলা’র রোল মডেল হয়ে উঠবে।

