১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন
তদন্তের পর অবসর, ১৭ মাসেই বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
তদন্তের পর অবসর, ১৭ মাসেই বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালকের চেয়ার ‘অবৈধভাবে জোরপূর্বক’ দখলের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়া মো. জাহাঙ্গীর আলম খানকেই এবার একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চাকরি থেকে অবসরের প্রায় ১৭ মাস পর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তাঁকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়। 


বুধবার (১২আগস্ট) নির্বাহী পরিচালক পদে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। 


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ১৪(২) ধারা উল্লেখ করে তাঁকে নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-২) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।


এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্কে জড়ান জাহাঙ্গীর আলম খান। তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে তাঁর নেতৃত্বে ‘কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা-কর্মচারী’ জোরপূর্বক দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে উল্লেখ করা হয়। শফিকুল ইসলামকে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।


ঘটনার দুই দিন পর, ২৫ মার্চ জাহাঙ্গীর আলম খানকে ‘জনস্বার্থে’ সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। এরও দুই দিন পর ২৭ মার্চ ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমামকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।


তবে ওই তদন্তের ফলাফল কী হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তদন্তে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, কিংবা কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল কি না—সেটিও প্রকাশ্যে আসেনি।


এদিকে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর আলম খান উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলাটি নিষ্পত্তির আগেই তাঁকে বিএমডিএর শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


নতুন নিয়োগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘আপাতত অতীতের কোনো বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো। শফিকুল ইসলাম নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ। তাঁকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আমি ছিলাম না।’


অন্যদিকে তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিএমডিএর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


বিশ্লেষকরা মনে করেন, একই ব্যক্তিকে একসময় ‘জনস্বার্থে’ অবসর এবং ১৭ মাস পর আবার ‘জনস্বার্থে’ একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ—এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে সামঞ্জস্য ও তদন্তের ফলাফল নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।


শেয়ার করুন