০৭ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ১১:২৬:৫৬ অপরাহ্ন
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০৮-২০২৬
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।



বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তাদের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার পাশাপাশি তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করাই চুক্তির লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।



চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। এর এক দিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির সৌদি আরবে পৌঁছে মক্কায় ওমরাহ পালন করেন।



শুক্রবার সৌদি আরবে যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও। সেখানে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।




সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন এবং ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংঘাত দেশটির তেল রপ্তানি ও উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।




তুরস্ক ও পাকিস্তান সরাসরি বড় ধরনের হামলার শিকার না হলেও আঞ্চলিক সংঘাত তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে দুই দেশই উদ্বিগ্ন।



প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর তিন দেশের মধ্যে এ চুক্তি হলো। মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে এর প্রতীকী গুরুত্বও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চুক্তিটি তিন দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকেও আরও বিস্তৃত করেছে।



পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ ও প্রশিক্ষণ বিমান বিনিময়ের পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন কেনার বিষয়ে চুক্তি করে, যেটিকে আঙ্কারা তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিল।



আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের তিনটি বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার, তুরস্কের ড্রোন ও অস্ত্র প্রযুক্তি এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এ সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।



তবে চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক হলেও এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও অন্যান্য খাতেও তিন দেশের সহযোগিতা বাড়তে পারে বলে তুরস্কভিত্তিক আলজাজিরার প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

শেয়ার করুন