২৮ জুন ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৭:৫০ অপরাহ্ন
‎মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় কর বসাচ্ছে সরকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৬-২০২৬
‎মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় কর বসাচ্ছে সরকার

মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের খুচরা ও সেবাখাতকে ভ্যাটভিত্তিক সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। তবে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করা গেলে কর দিতে তাদের আপত্তি নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও মানসম্মত সরকারি সেবা নিশ্চিত করা গেলে অনানুষ্ঠানিক খাতেও কর পরিপালনের ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।




দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসা। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান, সেলুন, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ব্যবসা চালালেও অনেকেই নিয়মিত কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়। ‎ ‎


করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহে গতি আনতেই এবার মুদি দোকানসহ ১৬টি খাতে ভ্যাটভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। তবে অনেকেই বলছেন, সেবার মান বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে কর দিতে আপত্তি নেই। ‎ ‎


নতুন করে যে ১৬টি ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা, জুতার দোকান এবং হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা। ‎ ‎


এছাড়া ডেকোরেটরস প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংসের ব্যবসা, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্টের ব্যবসা, ফার্নিচার বিক্রেতা, বিউটি পার্লার এবং মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁকেও এ করের আওতায় আনা হবে। ‎


‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, এ উদ্যোগ ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত করবে এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ‎



অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, করের আওতা সম্প্রসারণ জরুরি হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সহজ ও ডিজিটাল কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ‎ ‎


রাজস্ব বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সফল বাস্তবায়নের জন্য দরকার সহজ নিবন্ধন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহনীয় কর কাঠামো।


শেয়ার করুন