২৯ জুন ২০২৬, সোমবার, ০২:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বেসরকারিরাও
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৬-২০২৬
পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বেসরকারিরাও

প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতির মধ্যেই আলোচনায় এসেছে দেশের বৃহৎ বেসরকারি চাকরিজীবী জনগোষ্ঠীর বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়।


সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি কর্মীদের জন্য কী ধরনের সুবিধা বা নীতিগত পরিবর্তন আসছে- সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।


সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত বহাল রেখে এর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।



তবে নতুন বেতনকাঠামোর সব সুবিধা শুরু থেকেই কার্যকর হবে না। প্রাথমিকভাবে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ বাস্তবায়ন করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে ধাপে বাকি অংশ এবং বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।


বর্তমানে কার্যকর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষা সহায়ক, উৎসব ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন। নতুন পে-স্কেলেও এসব সুবিধা কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


এদিকে নতুন পে-স্কেলকে ঘিরে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে এখনও আলাদা সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সার্ভিস রুলস বিদ্যমান।


সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চললেও দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ কর্মসংস্থানের উৎস বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য এখনও কোনো সমন্বিত বেতননীতি বা সার্ভিস রুলস কার্যকর হয়নি। শিল্প, ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, সেবা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য বেতনকাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন।


সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর আগে বেসরকারি খাতের জন্য সমন্বিত সার্ভিস রুলস প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলেও এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


বেসরকারি চাকরিজীবীদের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের জন্যও ন্যূনতম কর্মসংস্থানের মানদণ্ড, চাকরির নিরাপত্তা এবং শ্রমবান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেলের বিষয়টি নীতিগতভাবে প্রায় চূড়ান্ত। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে, কত ধাপে তা বাস্তবায়ন হবে এবং কোন শ্রেণির কর্মচারী কী ধরনের সুবিধা পাবেন- এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।


শেয়ার করুন