১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার, ০২:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সংলাপের সম্ভাবনা কম
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-১১-২০২৩
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সংলাপের সম্ভাবনা কম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে তফসিল ঘোষণার আগেই তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে সংলাপ চেয়েছে, তাতে আগ্রহ নেই সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে সরকারের মতিগতি বুঝে এগোনোর কৌশল নিয়েছে বিরোধী জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারা বলছে, সংলাপের প্রস্তাব ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে আসতে হবে।


এর বাইরে সংলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চিঠি পাওয়া তৃতীয় দল জাতীয় পার্টির নেতাদের গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনে ডেকে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


তিন দল ও সরকারের কাছেই সংলাপ অনুষ্ঠানের লিখিত ও মৌখিক প্রস্তাব গত সোমবার পৌঁছে দিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। বিএনপি ও জাপা যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও আওয়ামী লীগ চিঠি পাওয়ার কথা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বীকার করেনি।


অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে কার সঙ্গে সংলাপ হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শর্তহীন সংলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে আহ্বান জানিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি সংলাপের প্রয়োজন হয়, আমরা সেটা করব। কিন্তু কার সঙ্গে করব, সেটা বিবেচনার বিষয় আছে। সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’


সংলাপের আহ্বান সরকার অথবা ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে আসার কথা, এমনটাই মনে করেন বিএনপি ও জাপার নেতারা। তবে মার্কিনদের চিঠির ভিত্তিতে সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ কোনো উদ্যোগ নেবে না বলে জানান দলটির একাধিক নেতা। 


সংলাপ নিয়ে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান।


সরকারের শেষ সময়ে ভোটের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে আগে সংলাপ চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

আবদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, হঠাৎ করে এ ধরনের উদ্যোগ বা পরামর্শ কেন? সংলাপের মীমাংসা তো সংবিধানে করা আছে। সবাইকে নিয়ে সংবিধানসম্মতভাবে বা নির্বাচনকে পরিচ্ছন্ন, নিরপেক্ষ বা অবাধ, সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে তাদের (আমেরিকা) কোনো পরামর্শ থাকলে নির্বাচন কমিশনকে দিতে পারে।


আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য মনে করেন, সংলাপ-সমঝোতার সুযোগ আদৌ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আওয়ামী লীগ মানবে না। আর শর্ত দুটি না পূরণ হলে সংলাপে বসবে না বিএনপি। এমন অবস্থায় সংলাপের সম্ভাবনা তো আর থাকে না। 


বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তহীন সংলাপের চিঠি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনা করার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


দলটির মধ্যম সারির একাধিক নেতা বলেছেন, দলের মহাসচিবসহ অনেক নেতা-কর্মী কারাবন্দী। এ অবস্থায় সংলাপ করবে কে? তাঁরা বলেন, বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করছে। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে শর্তহীন সংলাপের প্রয়োজন মনে করছে না বিএনপি।

বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির এক সদস্য বলেন, বিরাজমান পরিস্থিতিতে সরকার ও আওয়ামী লীগ চাপে রয়েছে, বিএনপি নয়। বিএনপি সংলাপ করবে কি না, সেটা আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সংলাপের কোনো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবৈধভাবে তফসিল দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথ খোলার আহ্বান জানান।


নির্বাচন সামনে রেখে তৎপর হয়েছে বঙ্গভবনও। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আমন্ত্রণে গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের।


নির্বাচন সামনে রেখে জি এম কাদেরের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি কথা বলেছেন বলে জানান জাপা প্রতিনিধিদলের এক সদস্য।


শেয়ার করুন