০২ ডিসেম্বর ২০২৩, শনিবার, ১১:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
পিটিআইয়ের ভবিষ্যৎ কী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৩
পিটিআইয়ের ভবিষ্যৎ কী

রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগে ৬ আগস্ট পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটিকে ভিন্ন চোখে দেখা হচ্ছে। তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, ইমরান আসলে রাজনৈতিক ‘ডাইনি খোঁজার’ শিকার হয়েছেন। অন্য পাকিস্তানি নেতাদের মতো দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিবাদের জেরে তিনি ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েন। সেনাবাহিনীর নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ে সমর্থন থাকায় তাঁর কিছু সমর্থক ভেবেছিলেন, তিনি কোনো না কোনোভাবে আগের ধারায় ফিরবেন। তা ছাড়া, মে মাসে অল্প কয়েক দিনের আটকাবস্থার পর দেশটির উচ্চ আদালত তাঁর মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। এর কারণ যতই জনপ্রিয় ও সম্মোহনী নেতা হোন না কেন, দেশটির জেনারেলরা সব সময় সেখানে একটা সামরিক-বেসামরিক দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখেন। 


পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দলীয় প্রধানকে নিয়ে আবর্তিত দলটির শীর্ষ নেতারা এখন সেনাবাহিনীর চাপের মুখে রয়েছেন। কিছুসংখ্যক নেতা এরই মধ্যে পিটিআই বা রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গত মে থেকে দলটির হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটিতে এখনো পিটিআইয়ের রাজনৈতিক আবেদন থাকলেও ইমরান খান আর ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। 


গত বছরের এপ্রিলে সংসদের অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে পাকিস্তানজুড়ে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পিটিআই জয়লাভ করেছিল। এটা দলটির জনসমর্থনেরই প্রমাণ। এ ছাড়া দেশটিতে সব সময় একটা সরকারবিরোধী মনোভাব বিদ্যমান। এরই মধ্যে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়া দেশটির অর্থনৈতিক সংকট খারাপ সামলানোর জন্য ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।


জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য দেশটিতে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। কেননা অজনপ্রিয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। এই বিলম্ব পিটিআই সমর্থকদের বিক্ষুব্ধ করবে, কিন্তু দলটি নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলারও সময়-সুযোগ পাবে।


অবশ্য তার মানে এই নয়, পিটিআই নির্বাচনে উতরে যাবে। তবে দলটি যদি ইমরান খানের গ্রেপ্তার এবং সরকারের নৈপুণ্য বা কার্যকলাপ নিয়ে বিদ্যমান অসন্তোষ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে এখনো নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা আছে। তবে এটা বেশ কঠিনই হবে, যদি দলটির প্রতি ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক দমনপীড়ন অব্যাহত থাকে এবং তারা ভোটে জালিয়াতি ও কারচুপির আশ্রয় নেয়।


মনে হচ্ছে, কিছুদিনের জন্য হয়তো ইমরান দৃশ্যপটের বাইরে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে চিরতরে বিলীন হবেন না। তাঁর সাজা বহাল থাকলে তিনি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে কারাবন্দী খান রাজনীতিতে একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বেন না। বরং এর পরিবর্তে সাজা তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


শাহবাজ শরিফসহ পাকিস্তানের ইতিহাসে অনেক নেতাই রয়েছেন, যাঁরা জেলে সাজা ভোগের পর আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছেন। যে দেশে অনেক রাজনীতিবিদেরই  কঠিন পরিস্থিতির সামলানোর নজির রয়েছে, সেখানে এখনই ইমরান খানের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে লেখাটা বেশ অসময়ের হবে।


শেয়ার করুন