২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৫:১৮:৫১ পূর্বাহ্ন
ঈদে মিলাদুন্নবী: ইসলামি দৃষ্টিকোণ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৮-২০২৬
ঈদে মিলাদুন্নবী: ইসলামি দৃষ্টিকোণ

মানবতার আকাশ যখন ঘোর কৃষ্ণমেঘে আচ্ছন্ন, চতুর্দিকে হানাহানি, মারামারি আর রক্তক্ষয়ী সংঘাত; কোথাও ছিল না কোনো শৃঙ্খলা, ছিল না সামাজিক মূল্যবোধ কিংবা মানবতার ন্যূনতম ছিটেফোঁটা। চারদিকে কেবল নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও চরম অব্যবস্থাপনার জয়জয়কার।


মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব—তা তারা একপ্রকার ভুলেই গিয়েছিল। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়াকে অপরাধ গণ্য করে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হতো, চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি নিষ্পাপ কন্যাদের জীবন্ত কবর দিতেও কুণ্ঠাবোধ করত না তারা। বিশ্ব যখন এমন এক ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত, সভ্যতার আলো বলতে যখন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না—শুধুই ছিল অসভ্যতা ও নোংরামি, ঠিক তখনই এই ধরণী এক মহামানবের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছিল। আর্তমানবতা কাঁদছিল একজন শান্তির দূতের জন্য, পৃথিবীর চরম প্রয়োজন ছিল রহমতের এক অনন্য বাহকের।


ঠিক সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীতে বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও শান্তির দূত হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রেরণ করলেন বিশ্বনবী, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে।



তাঁর পবিত্র আগমনের মধ্য দিয়ে পৃথিবী খুঁজে পেল শান্তির পথ, মানবতা ফিরে পেল তার প্রকৃত রূপ। সকল প্রকার নৈরাজ্য, অস্থিরতা, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের দেয়াল ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে লাগল। অশান্তির স্থলাভিষিক্ত হলো পরম শান্তি, পশুত্বের জায়গায় ঠাঁই নিল মানবতা, বিশৃঙ্খলা রূপ নিল শৃঙ্খলায়, আর অসভ্যতা রূপান্তরিত হলো এক মহান সভ্যতায়। বিশ্বনবীর আগমনে মানবতার আকাশ আবারও আলো ঝলমলে হয়ে উঠল।


রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সমগ্র বিশ্বের জন্য এক পরম রহমত। তাঁর শুভ আগমনে সমগ্র সৃষ্টি হয়েছিল উল্লসিত ও আনন্দিত। আর একজন মুমিন হিসেবে নবীজির আগমনে আনন্দিত হওয়াটাই স্বাভাবিক; বস্তুত পৃথিবীর এমন কোনো মুসলিম পাওয়া যাবে না, যে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভ আগমনে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হননি।


বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মহানবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি এবং এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বেশি ভালোবাসবে। (সহিহ মুসলিম: ৪৪, সহিহ বোখারি: ৬৬৩২, ‍মুসনাদে আহমাদ: ২২৫০৩)


সেই ভালোবাসারই অন্যতম নিদর্শন হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র জীবন সম্পর্কে জানা, বোঝা এবং তা গভীরভাবে অনুধাবন করা। বিশেষ করে, নবুয়ত লাভের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথা ও কাজ জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা দ্বীনের মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।


যাইহোক, এই মহতি লক্ষ্যেই মুসলিম উম্মাহর বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিতের আদ্যপান্ত নিখুঁতভাবে সংকলন ও সংরক্ষণ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এ কথা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বারাকাহপূর্ণ জন্মের আলোচনা করা মুস্তাহাব ও উত্তম কাজ।


তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মনে রাখা প্রয়োজন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের আলোচনা করা বা তাঁর আগমনে আনন্দিত হওয়া আর সমাজে প্রচলিত ‘মিলাদ মাহফিল’ কিংবা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ পালন করা এক বিষয় নয়। দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে গড়া মানুষ, হজরত সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমের জীবনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, বর্তমানে যেভাবে বা যে পদ্ধতিতে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, তাঁরা কখনোই সেভাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম নিয়ে আলোচনা করেননি কিংবা তা উদযাপনও করেননি।


সাহাবায়ে কেরামই আমাদের পর্যন্ত বিশুদ্ধ দ্বীন পৌঁছানোর প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম; কারণ নববি যুগে আমরা কিংবা আমাদের পূর্বসূরী কেউই উপস্থিত ছিলেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দ্বীন পৌঁছানোর একমাত্র এবং একক নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত ও মহান আল্লাহর অনুমোদনপ্রাপ্ত মাধ্যম হলেন সাহাবায়ে কেরাম। সুতরাং, সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম যা করেননি কিংবা যা করার নির্দেশ দেননি, এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতাকে যদি কেউ দ্বীন মনে করে পালন করে, তাহলে তার সেই অজ্ঞতার প্রতি করুণা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই বলার থাকে না।


দ্বিতীয়ত, সাহাবায়ে কেরামের কাছ থেকে যাঁরা দ্বীন শিখেছেন—সেই তাবেঈনগণের যুগেও প্রচলিত পদ্ধতির মিলাদ মাহফিলের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তাবেঈনদের পর পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ তাবে-তাবেঈনগণ—যাঁরা তাবেঈনদের থেকে দ্বীনের শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁরাও বর্তমানকালের মতো কোনো মিলাদ মাহফিল, মিলাদ কনফারেন্স বা সেমিনার প্রতিষ্ঠা বা পালন করেননি। সহজ কথায়, হিজরি ৬০৪ সাল পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়সীমায় ইসলামে এই প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের কোনো রূপ বা অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যায় না। হিজরি ৬০৪ সালে প্রথম এর সূচনা ঘটে।


অতএব মূল কথা হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের আলোচনা করা মুস্তাহাব হলেও, বর্তমানে যেভাবে মিলাদ মাহফিল পালন করা হয়, ইসলামের প্রথম ৬০৪ বছর পর্যন্ত তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। সুতরাং, কেউ যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের আলোচনা করতে চায়, তাহলে তাকে ঠিক সেভাবেই করতে হবে যেভাবে সাহাবায়ে কেরাম করেছেন, যেভাবে তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনগণ শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই সুনির্দিষ্ট পথের বাইরে গিয়ে যদি কেউ নিজস্ব মতানুসারে কোনো আচার-অনুষ্ঠানকে দ্বীনের অংশ কিংবা সুন্নাহ বানিয়ে নেয়, তাহলে সেটা তার চরম অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।


ইসলামি ইতিহাসের অসংখ্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, বিশ্ব ইতিহাসে প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের প্রথম সূচনা করেন ইরাকের মসুল শহরের শাসক মুজাফ্ফার উদ্দিন (মৃত্যু: ৬৩০ হিজরি)। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও তাফসিরকারক হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাছির রাহিমাহুল্লাহু তাআলা উল্লেখ করেছেন, মসুলের শাসক মুজাফ্ফার উদ্দিন রবিউল আউয়াল মাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ১৩/১২৭)


একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশে যারা মিলাদ মাহফিলের পক্ষে কথা বলেন, তারাও স্বীকার করেন যে ৬০৪ হিজরির পূর্বে বর্তমান প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং এটি মুজাফ্ফার উদ্দিনের আমল থেকেই শুরু হয়েছে। সূচনালগ্নে মিলাদ মাহফিল যেভাবে পালিত হতো, কালের বিবর্তনে এর সাথে অসংখ্য শরিয়তবিরোধী এবং শিরকি কাজ যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রথমত, যে বিষয়টি ইসলামের প্রথম ৬০০ বছর পর্যন্ত ছিল না, পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয়েছে—তা সুন্নাত বা সওয়াবের কাজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, এটিকে সওয়াব বা সুন্নাহ মনে করা একটি বিদআত। তৃতীয়ত, বর্তমানে এই বিদআতের সাথে আরও বহু গোনাহের কাজ যুক্ত হওয়ায় এটিকে বৈধ বলার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। যেমন: বর্তমান সময়ের অনেক মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে নাচ-গান, নেশার আসর, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং পর্দা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি ঈমানবিধ্বংসী কিছু আকিদা লালন করা হয়। যেমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বজ্ঞানী বা আলিমুল গায়েব মনে করা। উপরন্তু, কেউ এই প্রচলিত মিলাদ না করলে তাকে ঢালাওভাবে ‘নবীর দুশমন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফলে এটি কেবল একটি বিদআতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং একের পর এক গুনাহের কাজের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই বিশ্বের মুহাক্কিক উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী নাজায়েজ ও বিদআত।


দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এটিকে কেবল ‘মিলাদুন্নবী’ না বলে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ বলা হয়। যেখানে ইসলামে বাৎসরিক ঈদ মাত্র দুটি-ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা, সেখানে দ্বীনের মধ্যে তৃতীয় আরেকটি ‘ঈদ’ আবিষ্কার করা একটি চরম বাড়াবাড়ি ও গোনাহের কাজ। শরিয়তে কোনো দিনকে ‘ঈদ’ হিসেবে সাব্যস্ত করতে হলে স্পষ্ট দলীল প্রয়োজন, অথচ দলিলের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।


ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বযুগের স্বীকৃত মূলনীতি হলো, যে বিষয়টি ‘খাইরুল কুরুন’ বা ইসলামের শ্রেষ্ঠ তিন যুগে ছিল না, তা কখনো ইবাদত হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রসিদ্ধ সাহাবি হজরত হুযাইফা রাজিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, ‘যে ইবাদত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ করেননি, তোমরা সেই ইবাদত করো না।’ (আল-ইতিসাম: ২/১৩২)


কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বর্তমানে ঈদে মিলাদুন্নবীকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান জানানোর একটি স্বতন্ত্র মাধ্যম ও ইবাদত বানিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইমাম শাতিবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা বিদআতের সংজ্ঞায় বলেন, ‘বিদআতের অন্যতম একটি প্রকার হলো, ব্যাপক কোনো ইবাদতের জন্য বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করা; যেমন এক সুরে সবাই জিকির করা কিংবা রাসূলের জন্মগ্রহণের দিনকে ‘ঈদ’ হিসেবে গ্রহণ করা।’ (আল-ইতিসাম: ১/৩৯)


সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতওয়া বোর্ড ‘আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ’-এর একটি ফতওয়া লক্ষ্য করুন। শায়খ আহমদ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক রাহিমাহুল্লাহু তাআলা বলেন, ‘শরীয়তসিদ্ধ নয় এমন কোনো বিষয় দ্বীনে উদ্ভাবন করাই বিদআত; যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম উপলক্ষে মিলাদের আয়োজন করা-যা পরিত্যাজ্য।’ (ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দাইমাহ: ৩/১২৯)


মোটকথা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা, কাজ ও দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের যাবতীয় বিষয় সম্পূর্ণ স্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁর হেদায়াত ও দ্বীনের অনুশাসনের মধ্যে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ ছিল না। সাহাবীগণ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের গ্রহণযোগ্য কোনো ইমামের আমল থেকেও জন্মবার্ষিকী উদযাপনের কোনো প্রমান পাওয়া যায় না। মূলত দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ও বাড়াবাড়িতে লিপ্ত বিদআতিদের মাধ্যমেই এই প্রথার প্রচলন ঘটেছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম উপলক্ষে এ ধরনের মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা স্পষ্ট বিদআত।


তাছাড়া ইসলামের নির্দিষ্ট দুই ঈদ তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়া তৃতীয় আরেকটি ঈদ-এর প্রচলন করা হদিস দ্বারা নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে, হজরত তাউস রাজিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোনো নির্দিষ্ট মাসকে ঈদ বানিয়ে নিয়ো না এবং কোনো নির্দিষ্ট দিনকেও ঈদ বানিয়ে নিয়ো না।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৮৫৩)


শেয়ার করুন