ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও দেশের প্রধান নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রুপালি ইলিশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুকভরা আশা নিয়ে জেলেরা জাল ফেললেও অধিকাংশ সময়ই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ট্রলারের জ্বালানি ও রসদ খরচ তুলতে না পেরে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তা আর হতাশায়।
দেশের অন্যান্ন স্থানের মতো সমুদ্রে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রেও মাছ অবতরণ কমেছে। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাছ অবতরণ কমেছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ইলিশের অবতরণ কমেছে প্রায় অর্ধেক। মাছ কম আসায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে রাজস্ব আদায়েও। মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সামুদ্রিক মাছ অবতরণের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্র। সমুদ্র থেকে মাছ শিকার শেষে জেলেরা এ কেন্দ্রে তা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১২ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর এ অবতরণকেন্দ্রে মাছ আসা কমেছে।
গত বছর পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে মোট ৪২৯ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়েছিল। এর মধ্যে ইলিশ ছিল ৩১৭ মেট্রিক টন এবং অন্যান্য মাছ ছিল প্রায় ১১২ মেট্রিক টন। চলতি বছর একই সময়ে মোট মাছ অবতরণ হয়েছে প্রায় ৪০৬ মেট্রিক টন।
জেলেদের দাবি, অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সমুদ্রে নির্বিচারে মাছ শিকার করায় মাছের উৎপাদন কমে গেছে। মৎস্যজীবীরা বলেন, ‘এই সিজনে এখন পর্যন্ত অন্তত লাখ পাঁচেক টাকা দেনা আছি। যদি ট্রলিং বন্ধ না হয়, তাহলে দুই-এক বছরের মধ্যেই কোনো মাছ থাকবে না। ট্রলিংয়ের কারণে মাছ পাই না। ট্রলিংয়ে ছোট ছোট মাছ ও ডিম সব নষ্ট করে দিয়ে সমুদ্র খালি করে ফেলে।’
মাছ অবতরণ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও। চলতি বছর রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৫ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ কম। পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের বিপণন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘অন্যান্য মাছের অবতরণ মোটামুটি গত অর্থবছরের মতোই আছে। তবে ইলিশের অবতরণ কম হওয়ায় মৎস্য অবতরণ চার্জ বাবদ আদায় করা রাজস্বের পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে।’
মৎস্য বিভাগ বলছে, অবৈধ ট্রলিং মালিকদের কৌশলের কারণে ট্রলিংয়ের মাধ্যমে মাছ শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনায় মৎস্য অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘মৎস্য অধিদফতরের লজিস্টিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো দরকার। অবৈধ ট্রলিং বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কারণ আমাদের জনবল ও লজিস্টিক সক্ষমতা দুটোই অনেক কম।’
পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে বিক্রি করা মাছের মোট দামের ১ দশমিক ২৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করে সরকার।