১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০২:১৯:৫৮ অপরাহ্ন
হরিপুরে রাতের অন্ধকারে পুড়ল বিপুল সরকারি ওষুধ: এলাকায় ক্ষোভ, তদন্তের দাবি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৬-২০২৬
হরিপুরে রাতের অন্ধকারে পুড়ল বিপুল সরকারি ওষুধ: এলাকায় ক্ষোভ, তদন্তের দাবি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর ভেতরে রাতের অন্ধকারে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও স্যালাইন পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল, রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধ ও স্যালাইনের বড় একটি স্তূপে আগুন দেওয়া হয়। পরদিন সকালে হাসপাতাল এলাকায় পোড়া ওষুধের প্যাকেট, ছাই এবং স্যালাইনের বোতলের অবশিষ্টাংশ দেখতে পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর দ্রুত ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুড়িয়ে ফেলা অধিকাংশ ওষুধ ও স্যালাইন বেশ কিছুদিন আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তবে সরকারি ওষুধ ধ্বংসের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত নীতিমালা, তালিকা প্রণয়ন এবং কমিটির উপস্থিতিতে কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও কেন গভীর রাতে এভাবে তড়িঘড়ি করে ওষুধ ধ্বংস করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী অভিযোগ করেন, প্রায়ই হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকার কথা বলে তাদের বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়। অথচ বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ গুদামে পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে— এমন তথ্য সামনে আসায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রাঔ বলেন, “গরিব মানুষের জন্য সরকার যে ওষুধ দেয়, তা যদি মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে? বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত।”

স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, ওষুধগুলো কেন সময়মতো বিতরণ করা হয়নি, কতদিন ধরে গুদামে ছিল এবং কার অবহেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে— এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, দরিদ্র রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “পোড়ানো ওষুধ ও স্যালাইনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অব্যবহৃত ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।” তবে কেন রাতের বেলায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হলো এবং ধ্বংস প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত কমিটির উপস্থিতি ছিল কিনা— এমন প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এলাকাবাসী স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, “সরকারি ওষুধ জনগণের সম্পদ। সেই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।” এ বিষয়ে জানার জন্য হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান ও মেডিকেল অফিসার এ বি এম রাশেদুজ্জামান এর সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা উভয়ে ফোন রিসিভ করেননি। 

ঘটনাটি নিয়ে হরিপুরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে স্থানীয় জনগণ।

শেয়ার করুন