২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০১:১০:১৭ অপরাহ্ন
রাসিকের প্রশাসকের চেয়ারে বসতে পারেন মামুন
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০২-২০২৬
রাসিকের প্রশাসকের চেয়ারে বসতে পারেন মামুন

ঢাকা উত্তর,দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে এরইমধ্যে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে বাকী রয়েছে আরো ৬ টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ।এরমধ্যে অন্যতম রাজশাহী সিটি করপোরেশন(রাসিক)।

রাজশাহীতে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে তৎপরতা।মহানগরের অন্তত পাঁচজন বিএনপি নেতা প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।যারা ইতোমধ্যে দলের হাই কমান্ডে যোগাযোগ শুরু করেছে। এদিকে, প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রাজশাহী বিএনপির দু নেতা।একজন রাসিকের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অপরজন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন।

মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল:

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বনও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক মেয়র।তিনি ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচ এমখায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে জয়ী হন। তবে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাকে বরখাস্ত করা হয়।সমর্থকদের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আওয়ামী লীগ সরকার। এছাঢ়াও ২০১৫ সালের ২ মার্চ তার বাসভবনে পুলিশের অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের আহত ও আটক করার ঘটনাও তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মামুন অর রশিদ মামুন:

অন্যান্য বাকী চারজন প্রশাসক প্রার্থীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে মামুন অর রশিদ মামুন। মামুন রাজনৈতিক জীবনে মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। পরবর্তীকালে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও রাজনৈতিক কারণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা বিএনপির এই ত্যাগী নেতার অবস্থান বেশ দলীয়ভাবে শক্ত।

শুধু তাই নয় এই নেতা দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে রাজশাহী মহানগর বিএনপিকে
সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে রেখেছেন ভুমিকা। আন্দোলন সংগ্রামে দিয়েছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব। ফলে দলের সর্বোচ্চ হাই কমান্ড ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে মামুনের রয়েছে ক্লিন ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা। ফলে অন্যান্য প্রশাসক পদ প্রত্যাশীদের বড় ফ্যাক্টর তৈরী করতে পারে এই নেতা। শুধু তাই নয় দলীয় প্রধান তারেক রহমানের কাছেও মামুনের রাজনৈতিক আমলনামা বেশ স্বচ্ছ ও স্পষ্ট বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে বলছে

ওয়ান ইলেভেনের সরকার মামুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্রস ফায়ারের নামে নীল নকশার ছঁক আখে। নিয়ে যাওয়া হয় রাতের আধাঁরে নির্জ্জন স্থানে। এরপর পিস্তল ঠেকিয়ে ৬ টি গুলি করে তৎকালীন র্যাবের কতিপয় সদস্যরা। নাম দেয় বন্ধুক যুদ্ধ নাটকের।সেখান থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেন মামুন।দলের জন্য বরণ করে নেন পঙ্গুত্ব। তাও তিনি দমে যাননি শারিরীক সমস্যা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠে আবারও রাজশাহীর রাজনৈতিক ময়দানে। ছুটে যান মিছিল, সমাবেশ, হরতাল ,অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিগুলোতে।রাখেন সক্রিয় ভুমিকা।

অন্যদিকে,আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বরাবরই শক্ত অবস্থান এবং বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে রাজশাহী জেলা ও মহানগরে বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১৫-২০ টি মামলা হয় মামুনের বিরুদ্ধে। বহুবার কারাবাস করতে হয় বিএনপির মৃত্যুঞ্জয়ী এই নেতাকে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন,দলের কঠিন সময়ে বিপদগ্রস্ত দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতেন বিএনপির এই নেতা। এছাড়াও মামুনের মত এমন ত্যাগী নেতা খুব কমই রয়েছে রাজনীতিতে।সেজন্য তৃণমূল মনে করেন মামুন অনন্য প্রশাসক পদ প্রত্যাশীদের থেকে সব দিক দিয়ে এগিয়ে। তাই দলের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব দিক বিবেচনা করে নিশ্চয়ই মামুনকে রাসিকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিবেন।

দলীয় সূত্রের মতে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বিএনপির কেউ একজন প্রশাসক পাবে। ফলে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নেতারা প্রশাসক পদেও সক্রিয় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

শেয়ার করুন