১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১২:২৯:২৪ পূর্বাহ্ন
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০১-২০২৬
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্যাতন সহ্য করলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। হৃদ্যতাপূর্ণ ও আন্তরিক ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি সবাইকে মুগ্ধ করতেন। দক্ষিণ এশিয়ায় নারী হিসেবে তার নেতৃত্ব এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে। গভীর সংকট ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক প্রকৃতির মানুষ এবং সারাজীবন বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ তার লিগ্যাসি স্মরণে রাখবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে, তখন তিনি নির্ভীকভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।’ তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বন্দিত্বকে একটি ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদন থেকে তথ্য তুলে ধরেন।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘অসুস্থ শরীর ও অসীম কষ্ট নিয়েও খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। অন্যদের জন্য তার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিরোধী দলে থাকলেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করে রেখেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক চ্যাম্পিয়নের স্মরণসভা আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।’

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার অবদান এবং তার সংগ্রামী জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শেয়ার করুন