২৯ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:০৬:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মানবিক পুলিশিংয়ের উজ্জ্বল দৃ‘ষ্টা‘ন্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির
রাকিবুল হোসেন শাহীন:
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-১০-২০২৬
মানবিক পুলিশিংয়ের উজ্জ্বল দৃ‘ষ্টা‘ন্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) এ ভূষিত সুযোগ্য পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। গত ০৭ মে ২০২৬ তারিখে আরএমপির ৩৪ তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি তার মেধা, সততা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে রাজশাহী মহানগরীকে উপহার দিয়েছেন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব নগরী।


তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সাহস, বীরত্ব, সেবায় বিশেষ অবদান ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে সাফল্যের জন্য তাকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) প্রদান করা হয়। কমিশনার যোগদানের পরেই বুঝতে পারেন, ফোর্স ভালো না থাকলে জনগণ ভালো সেবা পাবে না। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে মাসিক কল্যাণ সভা করেন। সেখানে তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রতিটি থানায় খেলাধুলার সরঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে বিদায় জানান, যা ফোর্সের মধ্যে এক নজিরবিহীন মানবিক দৃষ্টান্ত। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির যোগদানের পরেই রাজশাহীতে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঘোষণা করেন জিরো টলারেন্স নীতি। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে গত ৪ মাসে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা, মতিহার, বেলপুকুর ও শাহমখদুম এলাকায় প্রায় ২০০ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে বাঁচাতে মাদক নির্মূল করতেই হবে।


গত ৫ জুলাই ২০২৬ তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ব্যবসায়ীরা জানান, তার নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও হয়রানি অনেক কমেছে। নগরীর সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর ও আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এখন নির্ভয়ে ব্যবসা করছেন। কোনো চাঁদাবাজের ফোন পেলেই সাথে সাথে ৯৯৯ বা বিট পুলিশিং নম্বরে কল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিশোর অপরাধ দমনে তিনি প্রতিটি থানায় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ইউনিটকে সক্রিয় করেছেন। চুরি-ছিনতাই ও যানজট নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর নির্দেশনায় নগরীতে ছিনতাই অনেক কমেছে। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তিনি আরএমপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাইকোসোশ্যাল কেয়ার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, যদি আমরা শিশুর মনে নিরাপত্তা তৈরি করতে পারি, তাহলে শিশু মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে, কী ঘটেছে তা জানা সম্ভব হবে। এই প্রশিক্ষণে ৬ থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের ৩০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর ২০২৬ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ১০৯টি মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আয়োজকরা জানান, এবারের মতো সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পূজা অতীতে হয়নি।এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর উপলক্ষে তিনি তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সফরকে সফল করেন এবং ৯ অক্টোবর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের "অমনিভার্স সায়েন্স ফেস্ট-২০২৬ এ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ করেন। নগরীর প্রতিটি থানায় জিরো কমপ্লেইন ইউনিট, বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করে তিনি পুলিশকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন। তার সম্পর্কে আরএমপির একজন কনস্টেবল বলেন, স্যার কখনো ধমক দিয়ে কথা বলেন না। তিনি আমাদের সমস্যা শোনেন। তিনি আমাদের অভিভাবক। নগরীর একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বলেন, মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির স্যার প্রমাণ করেছেন, কঠোর হয়েও বিনয়ী হওয়া যায়। মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি যে সাহস দেখিয়েছেন, তা রাজশাহীর জন্য আশীর্বাদ। নগরবাসী মনে করে, এই পদক একজন যোগ্য ব্যক্তির যোগ্য সম্মান। তার নেতৃত্বে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ দেশের মধ্যে একটি মডেল মেট্রোপলিটন পুলিশে পরিণত হবে।



শেয়ার করুন