২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মুখ খুলল চীন ও কাতার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মুখ খুলল চীন ও কাতার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে চীন ও কাতার। দুই দেশই বলেছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা সংকটের সমাধান নয়; বরং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা চীন সমর্থন করে না। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বেইজিং নিজের বৈধ স্বার্থ রক্ষা করবে।


চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রথম দফায় বড় কোনো চীনা ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।


একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে কাতারও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, পুরো বিশ্বেই পড়বে।



গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরান এবং দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানো।


এই পদক্ষেপের আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ, তেল খাত ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান পরিবহন ও নৌপরিবহন খাতেও সম্ভাব্য গৌণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।


স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ বা কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবে, ভবিষ্যতে তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।


এদিকে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, চীন, রাশিয়াসহ ইরানের মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটনের এই চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।


অন্যদিকে পাকিস্তানও সমান্তরালভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বৈঠকের পর দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।


শেয়ার করুন