২৩ অগাস্ট ২০২৬, রবিবার, ০৯:৫০:১৬ অপরাহ্ন
রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৮-২০২৬
রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুই বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা ও নিয়োগগত উপযুক্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।




রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন তিনি বিমান বাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনাও পরিদর্শন করেন।



নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।


পদোন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিয়োগগত উপযুক্ততার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।



তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও নৌ ও বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।



দেশের প্রয়োজনে দুই বাহিনীর অবদানের জন্য বাহিনী দুটির প্রধানসহ সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।


অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং তাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।



নির্বাচনী পর্ষদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতা এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে হতাহতদের অবদান স্মরণ করেন তিনি।


পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি এবং এর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।



এরপর বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টারে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমানকে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম দেখেন প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রাম থেকে মানববিহীন আকাশযানের সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যের মাধ্যমে হেলিকপ্টারে সেনাসদস্য প্রবেশের কার্যক্রমও অবলোকন করেন তিনি।



পরে বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি মানববিহীন আকাশযান, ড্রোন, কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম উড়োজাহাজ প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।



নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



শেয়ার করুন