২১ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৯:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৭-২০২৬
মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পিলখানায় বিজিবি সদর দফতর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে মোজাফফর হোসেনের অন্যান্য সহযোগীদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছে। সেই বিচারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ (ফাইন্ডিংস) রয়েছে। এই মামলায় আগে যারা দণ্ডিত (কনভিক্টেড) বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর (এক্সিকিউটেড) হয়েছেন, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ (ফাইন্ডিংস) রয়েছে কি না, তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল সংশ্লিষ্ট আইনে বিবেচনা করবে। এখনই তাকে সিভিল আইনে নতুন করে একই মামলায় অভিযুক্ত করা আইনসম্মত হবে কি না, সেটিও তখনই নির্ধারণ করা হবে।


প্রসঙ্গত, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে সামরিক হেলিকপ্টারে করে রোববার তাকে ঢাকায় আনা হয়।


এর আগে, ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মোজাফফর হোসেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতও করতেন।


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। সামরিক ট্রাইব্যুনালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়। তবে পালিয়ে যান মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর খালেদ।


অন্যদিকে, পুশইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন হতে দিইনি। আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং জনগণের সহায়তায় সফলভাবে এখন পর্যন্ত তা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাশ্ববর্তী দেশে যদি কোনো বাংলাদেশের নাগরিক থাকেন, তবে তাদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক দিতে হবে। তাদের জাতীয়তা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তাছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কাউকে এখানে অনুমতি দেওয়া হবে না।


শেয়ার করুন