২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন
রাজশাহীর পশুর হাটে হাসিলে অতিরিক্ত টাকা আদায়
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৫-২০২৬
রাজশাহীর পশুর হাটে হাসিলে অতিরিক্ত টাকা আদায়

রাজশাহীর বিভিন্ন পশুর হাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে আদায়কৃত টাকার পরিমাণ রশিদে উল্লেখ না করেই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এতে কোরবানির পশু কিনতে এসে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।


 



সোমবার রাজশাহীর সিটি হাট থেকে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন গোলাম মোর্তজা। গরুটি কিনতে তাকে এক হাজার টাকা হাসিল দিতে হয়েছে। তবে ইজারাদারের পক্ষ থেকে দেওয়া রশিদে টাকার অঙ্ক লেখা ছিল না।

গোলাম মোর্তজা বলেন, “সব হাটেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অন্য হাটে অন্তত রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা থাকে। সিটি হাটে সেটাও লেখা হচ্ছে না।” খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সিটি হাট নয়, রাজশাহীর আরও কয়েকটি পশুহাটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।


 


পবা উপজেলার নওহাটা পশুহাটেও রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে গরুর জন্য এক হাজার টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ নওহাটা পৌর কর্তৃপক্ষ গরুর জন্য ৫০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করেছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার নওহাটা পশুহাটের ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন।


 


রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটি হাটে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হচ্ছে। করপোরেশন গরু ও মহিষের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা হাসিল নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে গরুর ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৭০০ থেকে ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


 


সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতেই অনেক রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে না।


 


এ বিষয়ে সিটি হাটের ইজারাদারদের একজন শওকত আলী বলেন, “সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত হারের চেয়ে আমরা ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। হাটে গত দুই দিনে প্রায় ২০০ গাড়ি মাটি ফেলতে হয়েছে। দুই ট্রাক বাঁশ-খুঁটিও বসানো হয়েছে। এসব কাজ করপোরেশন করেনি। অতিরিক্ত খরচের কারণেই কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে।”


 


রশিদে টাকার পরিমাণ না লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, “রশিদে টাকার অঙ্ক লেখার কথা। কোনো কোনো মহুরি হয়তো লিখতে ভুলে যাচ্ছে। কারা এমন করছে জানতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


 


সিটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


 


অন্যদিকে, নওহাটা পশুহাটের রশিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নওহাটা পশুহাটের ইজারাদার আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আকবর আলী নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


 


পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন বলেন, “নওহাটা পশুহাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি নজরে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজারাদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবার কোনো হাটেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে দেওয়া হবে না।”


শেয়ার করুন