২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১১:৪৯:২২ অপরাহ্ন
বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় নীতি প্রণয়ণের উদ্যোগ সরকারের
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০৫-২০২৬
বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় নীতি প্রণয়ণের উদ্যোগ সরকারের

বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন একটি বিধিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


প্রস্তাবিত এই বিধিমালার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ, কর্মঘণ্টা, বিভিন্ন ধরনের ছুটি, নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা, চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, কর্মক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বৈষম্য দূর করা, জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ, হয়রানি প্রতিরোধ এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধার আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।


এ বিষয়ে গত ১০ মে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বার ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে মতামত চেয়ে ১৫ কর্মদিবস সময় দিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।


জানা গেছে, প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।



বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মোস্তফা জামান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তাকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কর্মী ছাঁটাই করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বয়স হলে রাখতে চায় না। নারী কর্মীরা যথাযথ মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। অনেক প্রতিষ্ঠান সার্ভিস বেনিফিটও দেয় না। এসব সমস্যা দূর করতেই নতুন রুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর্মরত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বেসরকারি খাতে কর্মরত। বিপরীতে সরকারি খাতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।


ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, বেসরকারি খাতে কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চাকরি করেও কর্মীরা ন্যায্য পাওনা, স্থায়ী নিয়োগ কিংবা নির্ধারিত সুবিধা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।


তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি খাতের কাঠামো ও কর্মপরিবেশ খাতভেদে ভিন্ন হওয়ায় সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সার্ভিস রুলস প্রণয়ন সহজ হবে না। এজন্য ব্যবসায়ী সংগঠন, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


শেয়ার করুন