১১ মে ২০২৬, সোমবার, ০৩:৪১:২৩ অপরাহ্ন
বুধবার তিন দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন ট্রাম্প
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০৫-২০২৬
বুধবার তিন দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন ট্রাম্প

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বুধবার তার এ সফর শুরুর কথা রয়েছে।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন ট্রাম্প। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক ঝুঁকিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে ইরানের ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি-ভিত্তিক প্রভাব ব্যবহার করে তেহরানকে শান্তি আলোচনায় আনতে চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, চীন যদি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করে, তাহলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সমঝোতার পথে এগোতে বাধ্য হতে পারে।


এছাড়া বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে। রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টি ট্রাম্প কঠোরভাবে উত্থাপন করতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।


অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্ক বিরোধ কমানো, বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিন্ন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েও দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।


সফরের অংশ হিসেবে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তার সম্মানে বিশেষ চা-আড্ডা ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা প্রশমনে প্রতীকী ভূমিকা রাখতে পারে।


মূলত চলতি বছরের মার্চে সফরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়।


শেয়ার করুন