জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ডাকাতির অভিযোগে ৫ পেশাদার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুটের এই ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালাই থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তাররা সবাই সংঘবদ্ধ ও অভিজ্ঞ ডাকাত দলের সদস্য।
তাদের বিরুদ্ধে আশপাশের জেলাগুলোতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- কালাই উপজেলার নান্দাইল পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব (৬০) ও মোহাম্মদ আলী (৪০), একই উপজেলার দেওগ্রাম এলাকার সবুজ মিয়া (২৮), আঞ্জুমান (২৮) এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের বিপুল (২৮)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে ওই ডাকাত চক্র নান্দাইল পূর্বপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত নারী শাহানার বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। শয়নকক্ষের বারান্দার গ্রিলের তালা কেটে তারা ভেতরে ঢোকে এবং চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি মারধর করে।
একপর্যায়ে স্টিলের আলমারি ভেঙে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৭ লাখ টাকা এবং কানে থাকা স্বর্ণের রিং লুট করে পালিয়ে যায়। ডাকাতদের হামলায় গুরুতর আহত শাহানার বেগমকে পরে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার কয়েকদিন পর ২৫ ডিসেম্বর তিনি নিজে বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরো জানান, অভিযানের সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তালা কাটার যন্ত্র, ধারালো ছোরা, হাতুড়ি ও প্লাস উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা সবাই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তার পাঁচজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় ৮ থেকে ৯টি করে মামলা রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারভাবে ডাকাতি করে আসছিল। এই চক্রকে গ্রেপ্তারের ফলে এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে পুলিশ আশাবাদী।’

