১৭ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৩:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন
আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে ৮৭টি হারানো মোবাইল উদ্ধার
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-১২-২০২৫
আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে ৮৭টি হারানো মোবাইল উদ্ধার

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।


আজ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে এ মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ড. মো: জিল্‌লুর রহমান।


আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মোট ৮৭টি হারানো মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসব মোবাইল ফোন শুধু রাজশাহী মহানগরী এলাকা থেকেই নয়, বরং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত করে এবং আজ পুলিশ কমিশনার নিজ হাতে প্রকৃত মালিকদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।


অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার ড. মো: জিল্‌লুর রহমান বলেন, পুলিশ শুধু দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজই করে না, বরং এমন অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করে যা সাধারণত মানুষের চোখে পড়ে না। অনেক সময় পুলিশের কার্যক্রম নেতিবাচক মনে হলেও বাস্তবে সেগুলো নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই করা হয়।”


তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক চেকপোস্টে হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের উদ্দেশ্য মূলত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, আইনগত সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা। তাই হেলমেট ব্যবহার করা নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।


মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা বিভাগ থাকলেও পুলিশ নিয়মিতভাবে এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়—এ জন্য পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নাগরিকদের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তথ্য দিতে সরাসরি ফোন করা ছাড়াও মেসেজ ও অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে আরএমপি’র ফেসবুক পেজ, হটলাইন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর চালু রয়েছে।


পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, সাম্প্রতিক উদ্ধার ও অভিযানগুলো প্রমাণ করে যে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরলসভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের ভালো কাজগুলোতে নাগরিকদের সহযোগিতা ও উৎসাহ পেলে এ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নাগরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া মালিকরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু হারানো সম্পদই ফিরে পাওয়া যায়নি, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো: ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তসহ আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন