১৭ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন
ভারতকে হরমুজ ছাড়ে ৩ ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৩-২০২৬
ভারতকে হরমুজ ছাড়ে ৩ ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

চলমান যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতগামী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে দিয়েছিল ইরান। বিনিময়ে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। সোমবার (১৬ মার্চ) এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।


গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারত। অভিযোগ ছিল, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।



সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।


যুদ্ধ শুরুর পর ইরান দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ সোমবার পশ্চিম ভারতে ফিরেও এসেছে। ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।


এই দুটি জাহাজ কীভাবে ছাড়পত্র পেল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পারস্পরিক আচরণের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘কোনো বিনিময় বা চুক্তির বিষয় এখানে নেই’।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতেও হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত ও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।


সোমবার ভারত জানিয়েছে, এখনও কমপক্ষে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক উপসাগরে আটকে আছেন। এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি বোঝাই রয়েছে। ভারত সবার আগে এই জাহাজগুলো ফেরাতে চায়, কারণ দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।



শেয়ার করুন