২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:৫১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকট শেষ হয়নি, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের আহ্বান
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৯-২০২৬
রোহিঙ্গা সংকট শেষ হয়নি, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে তাদের টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।


স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একটি সম্মেলন কক্ষে ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের নতুন আহ্বান’ শীর্ষক এক বৈশ্বিক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।


বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সার্বিক সহযোগিতায় সভাটি আয়োজিত হয়।


রোহিঙ্গা সংকট শেষ হয়নি, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরি পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বিশ্বের ৮টি দেশের প্রতিনিধিসহ ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় তুরস্ক ও কুয়েত।



দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকট নিরসনে বৈশ্বিক মনোযোগ বজায় রাখা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মৌলিক কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করাকে এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।


এতে আলোচকরা দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানের জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাভিত্তিক, মর্যাদাপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে নিবিড় আলোচনা হয়।


আলোচনায় স্পষ্ট করে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রিত জীবনযাপন করলেও এই গভীর মানবিক সংকট থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ কোনোভাবেই ফিকে বা স্তিমিত হতে দেওয়া যাবে না।


বক্তারা বলেন, সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের জোরালো রাজনৈতিক দৃষ্টি ও দায়বদ্ধতা যেমন ধরে রাখতে হবে, তেমনই আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দিয়ে আসা স্বাগতিক স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর (হোস্ট কমিউনিটি) জন্য নিরবচ্ছিন্ন বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।


পাশাপাশি অতীতে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অপরাধীদের উপযুক্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এই সাইড ইভেন্টে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বক্তারা উল্লেখ করেন, নিজেদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া ও শর্তাবলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো আরোপিত সিদ্ধান্ত নয়, বরং খোদ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ও অর্থবহ কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করতে হবে।


একই ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। সংকট সমাধানে পাঁচ জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দেন তিনি।


শেয়ার করুন