রাজশাহীতে ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘মেধা ও সৃজন’ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রদর্শনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বৃত্তি পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের বেশি পাওয়া ১৫০ শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে এ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মোসা. নুরজাহান বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্কুলটির চেয়ারম্যান রমেন্টু চাকমা।
উৎসবে ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সরকারি দল এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিরোধী দলের হয়ে অংশ নেয়। প্রাণবন্ত এ বিতর্কে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে নিজেদের যুক্তি ও মতামত উপস্থাপন করে। এ ছাড়া নৃত্য, ছড়া, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্য রচনায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের রোবট ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং বিভিন্ন সমস্যার বিকল্প সমাধান নিয়ে তৈরি করা হয় একাধিক মডেল। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দেয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও কৃতিত্ব অর্জনকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানবিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মা-বাবার সেবা করতে হবে। জীবনে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য অর্জনে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ক্যামব্রিয়ানের প্রতি শুভকামনা রইল।”
আয়োজকেরা জানান, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিজ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, নাচ, গান এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসারেও নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবকেরা বলেন, স্কুলটির শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের আচরণ ও নিয়মশৃঙ্খলা তাঁদের আকৃষ্ট করেছে। এ কারণে তাঁরা সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। মানসম্মত শিক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

