২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৩:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ৯৬ চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ, গ্রেফতার ৫
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৮-২০২৬
রাজশাহীতে ৯৬ চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ, গ্রেফতার ৫

রাজশাহী গোদাগাড়ীর মহাসড়কে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্রাইভেটকার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৬টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব মোবাইল ফোন শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে সীমান্তপথে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। 


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুজন মিঞা। গ্রেফতারকৃতদের নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।


এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রেলওয়ে কলোনির জামিল আহমেদ (৩০), একই এলাকার রিয়াদ হাসান রামিন (৩০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্য অরনকোলার হোসেন শেখ (৩৬), সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রেলওয়ে কলোনির শুকুর (৩০) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর উপরতলার আজিজুল হক (২৮)। তাদের বহনকারী সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাট মোড়ে অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা মোবাইল ফোন রাজশাহীর দিকে নেওয়া হচ্ছে।




পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের চাকচাপাল এলাকায় মহাসড়কে অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়।


রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি তল্লাশিচৌকিতে পৌঁছালে পুলিশ সেটি থামায়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির সামনের বাম পাশের আসনের পায়ের কাছে একটি লাল-কালো রঙের শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


তবে ঘটনাস্থলে সব ফোনের মডেল ও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জব্দ তালিকায় কয়েকটি ফোনের দুটি করে আইএমইআই নম্বর পাওয়া গেছে। আবার কিছু ফোন লক থাকায় ঘটনাস্থলে সেগুলোর আইএমইআই নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।


জব্দ তালিকায় কয়েকটি ফোনের আইএমইআই-সংক্রান্ত তথ্যেও অসংগতি রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ফোনগুলোর মডেল, আইএমইআই নম্বর, প্রকৃত উৎস এবং আমদানির বৈধতা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।


পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেফতার ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনগুলোর উৎস সম্পর্কে তথ্য দেন। তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, ফোনগুলো ভারত থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা হয়েছিল। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ফোনগুলো নেওয়া হচ্ছিল।


তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন আমদানির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে গ্রেফতার ব্যক্তিরা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়। মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ফোন বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়।


থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ভারত থেকে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে আসছিলেন তারা। কাগজপত্র না থাকায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


শেয়ার করুন