২২ অগাস্ট ২০২৬, শনিবার, ১১:১৪:২৪ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে মা-কিশোরীদের ব্যতিক্রমী বুট ক্যাম্প
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৮-২০২৬
রাজশাহীতে মা-কিশোরীদের ব্যতিক্রমী বুট ক্যাম্প

একটি শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার গল্প শুরু হয় মায়ের যত্ন ও সচেতনতা থেকে। আর কৈশোরেই তৈরি হয় ভবিষ্যৎ জীবনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। সেই ভাবনা থেকেই রাজশাহীতে মা ও কিশোরীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বুট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলাদা আলাদা বুটে হাতে-কলমে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ে ধারণা নেন ২৫০ জন মা ও কিশোরী।


শনিবার (২১ আগস্ট) সকালে নগরের মহিষবাথান এলাকার মিশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ বুট ক্যাম্পের আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি)। ১০টি বুটে ২৫ জন করে মোট ২৫০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ০ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১০০ জন মা এবং ১৫০ জন কিশোরী ছিলেন।


প্রধান অতিথি হিসেবে বুট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মা ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে না; মায়ের পুষ্টি, শিশুর সঠিক পরিচর্যা, টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।


জেলা প্রশাসক বলেন, কৈশোর একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের পাশাপাশি একটি সুস্থ পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।


তিনি বলেন, এ ধরনের বুট ক্যাম্পে শুধু তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে মা ও কিশোরীরা দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো কীভাবে চর্চা করতে হবে, সে বিষয়ে বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।


উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক ক্যাম্পের প্রতিটি বুট ঘুরে দেখেন। সেখানে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বিষয়ে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানতে চান। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী মা ও কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন।


বুট ক্যাম্পের প্রতিটি স্টেশনে ছিল স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন কার্যক্রম। শিশুর যত্ন, পুষ্টি, টিকাদান, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ব্যবহার, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বিষয়ে দেওয়া হয় তথ্য ও ব্যবহারিক ধারণা। অংশগ্রহণকারীরা এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বাস্তবায়নের কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন।


আয়োজকেরা জানান, শিশু ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবারের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মা ও কিশোরীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছর এবং কৈশোর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম। সঞ্চালনা করেন জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শারমিন আক্তার সুরভী।


এ সময় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল আবছার সবুজ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অর্জুন রায়সহ ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন