রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট সেবা ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অস্ত্রোপচারের শিকার হয়ে এক আদিবাসী নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শেষ হলেও এখনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।ভুক্তভোগীর নাম নিলুফা হেমরম গোদাগাড়ী উপজেলার ০৩ নং পাকড়ী ইউনিয়নের দেলশাদপুর যৌবন বাসাইল এলাকার বাসিন্দা।
নিলুফা হেমরমের লিখিত অভিযোগ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে ক্লিনিকের কর্মচারী মেহেদী হাসান (সুমন) তার বাড়িতে গিয়ে বলেন, "ভালো চিকিৎসক দিয়ে ডিঅ্যান্ডসি করাতে হবে। এই কথা বলে তিনি নিলুফাকে ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্লিনিকে কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। ক্লিনিকের মালিক স্বপন ও তার স্ত্রী জুঁই মিলে অস্ত্রোপচারটি করেন। অস্ত্রোপচারের পরপরই নিলুফার প্রচুর রক্তক্ষরণ ও তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়। অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে রাজশাহী খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করে তার জীবন বাঁচানো হয়। চিকিৎসা বাবদ পরিবারের প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৩৯১ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় গত ৩০ জুলাই নিলুফা হেমরম রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে সিভিল সার্জন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কাকনহাট সেবা ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে ক্লিনিকটিতে রোগী ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময়ও ক্লিনিকে কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজশাহী বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, এই বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ৫ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কাছে জমা দিয়েছিল। পরে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকার মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। বিষয়টি মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সেই বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিষয়টি মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাদের নির্দেশনা না পেলে আমরা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা: মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সকল কাগজ পত্র তৈরি হয়ে গেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্যারের স্বাক্ষর হলেই আমরা কাগজপত্র রাজশাহীতে পাঠিয়ে দিবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কাকনহাট সেবা ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক স্বপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সিভিল সার্জন অফিসে একটি অভিযোগ হয়েছে এবং সে সাপেক্ষে তদন্ত চলছে। আপনারা যা তথ্য পাবেন লিখতে পারেন, আমার কোনো আপত্তি বা অনুরোধ নেই। তদন্ত শেষ হওয়ার পরও ক্লিনিকটি খোলা থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।