রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে আধুনিক বিনোদন ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটিকে সাফারি পার্কের আদলে পুনর্গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সোমবার, ১৩ জুলাই বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, একসময় রাজশাহীর মানুষের প্রধান বিনোদনকেন্দ্র ছিল এটি। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ধীরে ধীরে এর জৌলুস কমেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা এটিকে নতুন রূপে সাজাতে চাই। তিনি আরও জানান, চিড়িয়াখানার সার্বিক আধুনিকায়নে খুব শিগগিরই বিশেষজ্ঞদের একটি দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। তাদের সুপারিশের আলোকে পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। প্রাণীদের কল্যাণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে থাকা এবং স্থানান্তরিত প্রাণীদের অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি রাজশাহীতে একটি আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের কথাও জানান। রাসিক কর্তৃপক্ষ এর জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। নগরীর উন্নয়নে রাসিক প্রশাসকের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বৃক্ষরোপণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম এবং রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা আবারও নগরীর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

