বিদ্যুৎ খাতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। এ দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছে।
শনিবার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খোলা চিঠি পাঠ করেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
খোলা চিঠিতে বলা হয়, সাধারণ গ্রাহকদের আপত্তি সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগ সারাদেশে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিনই প্রিপেইড মিটার সম্পর্কে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও বিক্ষোভের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভাষ্যমতে বিদ্যুৎ খাতে চুরি, অপচয়, ওভারলোড ও বকেয়া বিল ঠেকাতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যর্থতার দায় গ্রাহকদের কাঁধে চাপিয়ে জনগণের পকেট লুণ্ঠন ও চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আগে গ্রাহকদের মতামত গ্রহণ কিংবা একটি গণশুনানির আয়োজন করা উচিত ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রিপেইড মিটার সংযোগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এই মিটার বাণিজ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল একটি চক্রের হাতে। অভিযোগ রয়েছে, সেই চক্রটি এখনও সক্রিয় রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের নামে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের সকল মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে আসা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এর পরিবর্তে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার বাতিল করা না হলে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ সময় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্রনাথ রায়, আব্দুল জব্বার, এ বি এম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

