ইতালির রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিকে ‘বৈধ ছুটি’ হিসেবে গণ্য করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি দেশটির একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের ‘অন্তর্ভুক্তি নীতি’ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতর উদযাপনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি বিদ্যালয়কে পূর্বেই অবহিত করা হয় তবে ওই দিনের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীর বার্ষিক রেকর্ডে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত মোট প্রয়োজনীয় ঘণ্টার (Mandatory School Hours) গণনার ক্ষেত্রে এই অনুপস্থিতিকে হিসেবে ধরা হবে না। অর্থাৎ ঈদের কারণে স্কুল কামাই দিলেও শিক্ষার্থীর বার্ষিক উপস্থিতির হারে কোনো ঘাটতি হবে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিভাবককে ইমেইল বা লিখিত আবেদনের মাধ্যমে শ্রেণি শিক্ষক বা ক্লাস কোঅর্ডিনেটরকে বিষয়টি আগেভাগে জানাতে হবে।
এই ঘোষণার পর ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত ইতালির স্কুলগুলোতে ক্যাথলিক ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি প্রদান করা হতো, ফলে ঈদের দিন অনেক শিক্ষার্থীকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হতো।
ইতালির একজন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি ইতালিতে আমাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের এক বিশাল বিজয়। আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি এই স্বীকৃতি ইতালীয় সমাজে মুসলিমদের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে আরও উৎসাহিত করবে। প্রতিবার ঈদের দিন সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকতাম। একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে ক্লাসে অনুপস্থিতির ভয়।”
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির মতো একটি দেশে এই ধরনের পদক্ষেপ বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি কেবল একটি ছুটি নয় বরং ইউরোপের মাটিতে ইসলামের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি ক্রমবর্ধমান সম্মানেরই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, ইতালিতে দিন দিন মুসলিম জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন সেক্টরে ধর্মীয় বৈচিত্র্য বজায় রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। এই স্কুল কর্তৃপক্ষের নেওয়া সাহসী পদক্ষেপ অন্যান্য বিদ্যালয়ের জন্যও পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

