ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনের শুরুতে ২১ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। এতে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
মূলত শান্তি চুক্তি না হলে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার রাতে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করায় বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ মূল্য মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কারণ সুদবিহীন এই ধাতু উচ্চ সুদের পরিবেশে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ফেডারেল রিজার্ভের জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে আরও যুক্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন মে মাসের মার্কিন উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা দিনের পরবর্তী সময়ে প্রকাশ হওয়ার কথা।
অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের খনি মহাপরিচালক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিদ্যমান খনিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোয় দেশটির স্বর্ণ উৎপাদন ২০২৫ সালের ৫৯ দশমিক ৩৩ টন থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬২ মেট্রিক টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২৫ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

