ইরানে চলমান নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিনিময় করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের অনুরোধে আয়োজিত এই বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানে ‘হত্যাযজ্ঞ’ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত বিকল্প খোলা রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সাহসী জনগণের’ পাশে আছে। অন্যদিকে, তেহরান একে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনসম্মত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই কূটনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেন যে, ইরানের বর্তমান শাসকরা আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল এবং তাঁরা নিজেদের দেশের সাধারণ মানুষকেই ভয় পাচ্ছেন। বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে তেহরানের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল কথাবার্তায় বিশ্বাসী নন, বরং তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবেন না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বৃহস্পতিবার কিছুটা সংযত দেখা গেছে।
তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা কমেছে এবং দেশটি বড় ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না বলে তিনি তথ্য পেয়েছেন। ট্রাম্প আপাতত ‘অপেক্ষা করা ও পরে ব্যবস্থা নেওয়া’র নীতি গ্রহণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে ইরানের সহকারী রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেন দরজি মার্কিন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি ওয়াল্টজের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও তথ্য বিকৃতি’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্থিরতাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে সরাসরি জড়িত।
দরজি পরিষ্কার করে বলেন, ইরান কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না, তবে দেশের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যে কোনো আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে মনে করিয়ে দেন যে, এটি কেবল হুমকি নয়, বরং আত্মরক্ষার একটি আইনি বাস্তবতা।
বৈঠকে রাশিয়ার অবস্থান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ বিপক্ষে। জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছে এবং তাদের অপছন্দের শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিচ্ছে।
তিনি ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের ‘মাথা গরম’ না করে হুঁশে ফেরার আহ্বান জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মার্থা পবি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই মুহূর্তে কোনো ভুল পদক্ষেপ বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত ও আরও বড় ধরনের প্রাণহানি উসকে দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

