ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের ভান্ডারা কলেজ পাড়ায় আল-হিকমাহ এনলাইটেন্ড স্কুলের পরিচালক মিজানুর রহমানের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। চোরের দল ড্রয়ারে রাখা নগদ ১ লাখ ২১ হাজার টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে। ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির মালিক মিজানুর রহমান স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে ওমরা হজ পালনে যান। তাঁদের ৬ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা ছিল। এ কারণে বাসায় থাকতেন মিজানুর রহমানের বাবা ও ম্যানেজার।
পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে পৌর শহরের বন্দরে মিজানুর রহমানের হার্ডওয়্যার দোকানে তাঁর বাবা ও ম্যানেজার বেচাকেনা করছিলেন। বিকেলে ম্যানেজার বাসায় গিয়ে দেড় ঘণ্টার মতো বিশ্রাম নিয়ে আবার দোকানে ফেরেন। এরপর দুজনই বেচাকেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদিনের মতো রাত ৯টায় দোকান বন্ধ করে তাঁরা বাসার দিকে রওনা হন। বাসার কাছে গিয়ে তাঁরা গেটের তালা খোলা দেখতে পান। তাড়াহুড়ো করে ভেতরে ঢুকে দেখেন, মূল ঘরের দরজাও খোলা। ঘরে ঢুকে দেখা যায়, সব আসবাবপত্র এলোমেলো। তাঁরা তখনই প্রতিবেশীদের খবর দেন। সবাই মিলে খুঁজে দেখেন, ড্রয়ারে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে।
বাসার ভেতরে ও বাইরে লোহার রড, খুন্তি, বল্লম এবং তালা ভাঙার সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব দেখে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ দল ডাকাতির কায়দায় বাসাটি তছনছ করে সবকিছু লুটে নিয়ে গেছে। ওই সময় বাসার সবাই বাইরে থাকায় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে চোরের দল ভেতরে ঢুকে আলমারিসহ ঘরের অন্যান্য আসবাব তছনছ করে চুরির ঘটনা ঘটায়।
খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে রাণীশংকৈল থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা দ্রুত এসে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে।
মুঠোফোনে মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবহুল পৌর এলাকায় সন্ধ্যার আগে-পরে এমন চুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। তাঁরা বলেন, ভান্ডারা কলেজ পাড়া আবাসিক এলাকা হলেও এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। সন্ধ্যার পর অপরিচিত লোকজন অবাধে ঘোরাফেরা করে, আর পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সেই সুযোগ নেয় অপরাধীরা।
ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদ নিয়ে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো এখনই জরুরি।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানউল্লাহ আল বারী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

