০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার, ০১:০৪:০২ পূর্বাহ্ন
চারঘাটে জনবসতিপুর্ণ স্থানের শ্মশানঘাট স্থানান্তরের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০৮-২০২৫
চারঘাটে জনবসতিপুর্ণ স্থানের শ্মশানঘাট স্থানান্তরের দাবি

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শাহাপুর এলাকায় জনবসতিপুর্ণ এলাকায় নির্মাণাধীন শ্মশানঘাট স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। জনবসতিপুর্ণ এলাকা থেকে শ্মশানঘাট অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে গতকাল রোববার এলাকাবাসির গণসাক্ষরিত একটি আবেদন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) বরাবর দেয়া হয়েছে।

লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, আমরা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলাধীন শাহাপুর মোজার বাসিন্দা। শাহাপুর এ পাড়ায় প্রায় সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ লোক বাস করেন। কিন্তু সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন শাহাপুর ঘনবসতিরপুর্ণ এলাকায় স্থায়ী শ্মশানঘাট স্থাপনের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘনবসতি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র শ্মশানঘাট নির্মাণের পরামশ্য দিলেও ইট বালু ফেলে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও দুরদূরান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো মানুষ মারা গেলে শাহাপুর এনে খোলা আকাসের নিচে সৎকার (পোড়ানো) করা হচ্ছে। মরদেহ সৎকারের সময় দুর্গন্ধে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ্য হয়ে উঠেন। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এতে অনেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। মরদেহ পোড়ানোর সময় এই এলাকার ছোট ছোট বাচ্চারা রীতিমত ভয় পেয়ে যায়।

আরো উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে শ্মশানঘাট নির্মাণ শুরু করা হয়েছে সেখান থেকে মাত্র দুইশ গজ দুরে রয়েছে শাহাপুর বিজিবি ক্যাম্প। এর পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তরে রয়েছে জনবসতি। দক্ষিনে রয়েছে পদ্মানদী। শ্মশানঘাট নির্মাণ করা স্থান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি নেই। এই পুরো এলাকাজুড়ে মুসলমান জনগোষ্টি বসবাস করেন। শ্মশানঘাট নির্মাণ কমিটির লোকজনদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলার পরও তারা বিষয়টি আমলে নেন নি। বরং তারা উল্টো নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। স্থায়ী বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। এতে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে ওই স্থানে শ্মশানঘাট নির্মাণ অব্যাহত রাখলে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করে শ্মশানঘাটটি শাহাপুর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নির্মাণ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এব্যাপারে শাহাপুরের সাইদুর রহমান জানান, আমার বাড়ির ওয়ালের সাথে লাগানো শ্মশানঘাটের ওয়াল। শ্মশানের ঘর নির্মাণের জন্য ৩ থেকে ৪ ফুট ওয়াল তোলা হয়েছে। সেখানেই মরা পোড়ানো হয়। এতে দুর্গন্ধে আমরা বাড়িতে থাকতে পারি না। অনেক সময় অসুস্থ্য হয়ে যাই। আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি বলেন, মরা পোড়ানো দুর্গন্ধ যে কতটা তীব্র তা বলার ভাষা নাই। এই পুরো এলাকায় মুসলমানদের বাড়ি। মধ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে শ্মশানঘাট। আমরা কিভাবে এখানে বসবাস করবো। শ্মশানঘাট নির্মাণ কমিটিকে বিষয়টি জানানোর পর উল্টো তারা আমাদেরই হুমকি দিচ্ছে। এমন কি তারা রাতে এসে নিজেরাই ওয়ালের ইট খুলে একটা ঝামেলা বাধাঁনোর চেষ্টা করছে। 

এব্যাপারে শাহাপুর পুঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী হিমাদ্রী সরকার জানান, ওইখানে আগে বাড়িঘর ছিল না। দুবছরের মধ্যে বাড়ি ঘর হয়েছে। আগে নদীর ধারে লাশ পোড়ানো হতো। বৃষ্টি হলে সমস্যা হয়। যার কারণে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। 

শ্মশানঘাট নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার সরকার জানান, আগে পদ্মানদীর ঘাটে খোলা জায়গায় মরদেহ সৎকার করা হতো। এতে সমস্যা হতো। যার কারণে ওইখানে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কে বা কারা রাতে ওই ঘরের ওয়াল ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করেছে। একটা ঝামেলা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করেছি।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শাহাপুর এলাকার লোকজন শ্মশানঘাট স্থানান্তরের একটি আবেদন দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই কথা জানান চারঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাহাতুল করিম।


শেয়ার করুন