০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার, ০৫:১৫:১১ পূর্বাহ্ন
ভারতীয়দের চোখ এখন আকাশের দিকে, কী বললেন মোদি?
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০৮-২০২৫
ভারতীয়দের চোখ এখন আকাশের দিকে, কী বললেন মোদি?

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ধস ভারতে যেন মৃত্যুর মিছিল ডেকে নিয়ে এসেছে। উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে, সেতু ভেঙে পড়ছে, কৃষিজমি তলিয়ে যাচ্ছে।


সরকারি হিসেবে গত দুই সপ্তাহে প্রাণ হারিয়েছেন আড়াই শতাধিক মানুষ, গৃহহীন হয়েছে হাজারো পরিবার, ভেসে গেছে শত শত কিলোমিটার সড়ক। সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর, পাহাড়ি এলাকায় আগামী কয়েক দিনও ভারি বর্ষণ চলবে।


এমন এক সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার জনপ্রিয় রেডিও ভাষণ ‘মন কি বাত’-এর ১২৫তম পর্বে জাতির উদ্দেশ্যে বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের বড় পরীক্ষা নিচ্ছে। আমরা দেখছি কেমন করে ঘর ভেসে যাচ্ছে, রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, সেতু ডুবে যাচ্ছে, অথচ মানুষ হাল ছাড়ছে না। গোটা দেশের মন ভারাক্রান্ত।


মোদি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সেনা ও উদ্ধারকর্মীদের ভূমিকার কথা। তার ভাষায়, যেখানেই বিপদ এসেছে, আমাদের এনডিআরএফ–এসডিআরএফ আর সেনারা জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা থার্মাল ক্যামেরা, ড্রোন, লাইভ ডিটেক্টর, এমনকি স্নিফার ডগ ব্যবহার করে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করেছে। হেলিকপ্টার দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে খাদ্যসামগ্রী, আহতদের আকাশপথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ সময়ে স্থানীয় মানুষ, ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবক—সবাই একসঙ্গে মানবতার দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি প্রতিটি মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।


দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপর্যয় যতই হোক মানুষের মনোবলই আসল শক্তি। আর এই মনোবলের উদাহরণ পাওয়া গেছে জম্মু-কাশ্মীরে।


তিনি জানান, পুলওয়ামায় ইতিহাস গড়েছে প্রথমবারের মতো দিন–রাতের ক্রিকেট ম্যাচ। বিপুল দর্শক সমাগমে মাঠ ভরে উঠেছিল। নিরাপত্তা আর অবকাঠামোর অভাবে আগে যা অকল্পনীয় ছিল, আজ তা সম্ভব হয়েছে।


তিনি বলেন, পুলওয়ামায় রাতের আলোয় ক্রিকেট ম্যাচ- এটাই প্রমাণ করে আমার দেশ বদলাচ্ছে।


তিনি উল্লেখ করেন শ্রীনগরের ডাল লেকে আয়োজিত দেশের প্রথম ‘খেলো ইন্ডিয়া ওয়াটার স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল’। প্রায় ৮০০ ক্রীড়াবিদ অংশ নেন, নারী অংশগ্রহণ ছিল প্রায় সমান। নৌকাবাইচ, কায়াকিং, ক্যানুইং, রোয়িং—বিভিন্ন ইভেন্টে কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দেশজুড়ে এক উল্লাসমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির এই রোষ দীর্ঘমেয়াদে হিমালয় অঞ্চলের জন্য গুরুতর সংকেত। জলবায়ু পরিবর্তন, পাহাড়ি নদীর অতিবেগ, বন উজাড় ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকে দায়ী করা হচ্ছে। হিমাচলে কুলু, মানালি ও শিমলা পর্যটন মৌসুমে এখন প্রায় অচলাবস্থায়, উত্তরাখণ্ডে বহু গ্রাম এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জম্মু অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ কোটি কোটি রুপির বেশি বলে জানাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।


তবে এই অন্ধকারের মাঝেও জম্মু–কাশ্মীরের দুই ক্রীড়া আয়োজন যেন আশার আলো দেখাচ্ছে। মানুষের মনে দুঃখের ভিড়েও যে স্বপ্ন বাঁচতে পারে, তা আবারও মনে করিয়ে দিল।


প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রকৃতির তাণ্ডব আমাদের কাঁদাচ্ছে, কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়দের সাফল্য আমাদের উজ্জীবিত করছে। এই মনোবলই আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সরকারকে এখন আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু উদ্ধার নয়, প্রতিরোধই মূল। পাহাড়ি রাজ্যগুলোতে শক্তিশালী বাঁধ, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা- সবকিছুতেই নজর দিতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও ভয়ংকর বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকছে। এই মুহূর্তে মানুষের চোখ খোলা আকাশের দিকে, বৃষ্টির ধমক কমবে কিনা সেই অপেক্ষায়। আর মনোবল ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দুঃসময়ের ভেতর আলোর দিকটি তুলে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে কিছুটা হলেও শক্তি জোগাচ্ছে।


শেয়ার করুন