২৮ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ১০:৪৯:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ কত জানালেন প্রতিমন্ত্রী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-১০-২০২৬
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ কত জানালেন প্রতিমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। প্রথম পর্যায়ে সরকারি জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন কর্মীর খরচ হতে পারে ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।



বুধবার (২৮ অক্টোবর) উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক অভিবাসন সংলাপে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর ১ নভেম্বর থেকে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীদের দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের চাহিদাপত্র যাচাই ও সত্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দেশটিতে কর্মী নিয়োগের জন্য ৩৩৮টি লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। এসব নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্ভিস সেন্টারে জমা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না।


প্রথম পর্যায়ে বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হলেও বিদেশযাত্রা সম্পূর্ণ বিনা খরচে হবে না। বিমানভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্ভিস চার্জসহ একজন কর্মীর মোট ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।


অন্যদিকে, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।


অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশের পর কর্মীরা কোথায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাই তালিকা প্রকাশের আগে অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হতে পারে। প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরবর্তী ধাপে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।





শেয়ার করুন