১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:০১:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নেপালে আবারও ভয়াবহ বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-১০-২০২৬
নেপালে আবারও ভয়াবহ বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু

নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত জনপদ। মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ১২টি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকশিবিরও। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত আগস্টে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।



রোববার (১১ অক্টোবর) স্থানীয় প্রশাসন এ নির্দেশ দেয়। তবে এখন পর্যন্ত বন্যায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের গোরখা জেলার চুমনুব্রি এলাকায় ভূমিধসের কারণে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে ভাটির দিকে বন্যা দেখা দেয়।


গোরখা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রায় ১২টি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকশিবিরও।


বন্যার কারণে ওই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।


নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগত এলাকার ছয়জনকে সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে।


এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকশিবিরে থাকা ১৮ জন শ্রমিকও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা উপ্রেতি।


সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


এদিকে, বুধি গণ্ডকী নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় আশপাশের কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।



ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


উল্লেখ্য, গত আগস্টে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ। তথ্যসূত্র: রয়টার্স


শেয়ার করুন