১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৪:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ জাতীয় যুবশক্তির পাঁচ দফা দাবি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-১০-২০২৬
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ জাতীয় যুবশক্তির পাঁচ দফা দাবি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিয়োগে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।



রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে জাতীয় যুবশক্তি। এ কর্মসূচি থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।


কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য থেকে তাঁদের সন্দেহ হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর দাবি, ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য প্রকাশ হয়ে থাকতে পারে।


রিফাত রশিদ বলেন, ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন, যা দেশের চাকরির বাজারের সংকট তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে কোটা, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন তিনি।


যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি না খেলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিফাত রশিদ বলেন, যুবসমাজকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না।


জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেল অভিযোগ করেন, বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোকে দলীয়করণ ও অকার্যকর করার চেষ্টাও চলছে বলে দাবি করেন তিনি।


ফরহাদ সোহেল বলেন, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।


জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে এক কোটি চাঁদাবাজ তৈরির অভিযোগও করেন তিনি।


তারিকুল ইসলামের দাবি, যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি থাকলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সচল করার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই সামনে এলেও পরীক্ষা শুরুর আগে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।


ঘেরাও কর্মসূচি থেকে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো—যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ; প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা; নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা; ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা; এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ।


শেয়ার করুন