২৯ অগাস্ট ২০২৬, শনিবার, ০৪:৪২:০৩ অপরাহ্ন
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সীমিত করতে বিধিনিষেধ আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৮-২০২৬
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সীমিত করতে বিধিনিষেধ আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের

বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপে কাজের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই সঙ্গে নতুন নিয়ম না মানলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। খবর রয়টার্সের।


২৪ আগস্ট জারি করা এক স্মারকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অধীন শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী কর্মসূচি বলেছে, পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের অনুমোদন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু ঘটনা তারা লক্ষ্য করেছে, যা বিদ্যমান বিধিমালা লঙ্ঘন করতে পারে।


স্মারকে বলা হয়েছে, পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কেবল তখনই অনুমোদনযোগ্য, যখন সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কোনো প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়। সংশ্লিষ্ট বিধিমালা না মানলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে।


এর পরই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।


ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পর্যালোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় তারা পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের কিছু অনুমোদন স্থগিত রেখেছেন।


ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় জানিয়েছে, ২৪ আগস্টের স্মারকটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট, সরাসরি এবং প্রকৃতিগতভাবে বেশি বিধিনিষেধমূলক।


মার্কিন সরকার এর আগে আগস্টের মাঝামাঝিও এ বিষয়ে একটি স্মারক জারি করেছিল।


বার্কলের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় বলেছে, নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমতির আবেদন নিকট ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে না বলে তারা মনে করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


তবে ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যতামূলক শর্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের আবেদন স্বাভাবিকভাবে প্রক্রিয়া করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একইভাবে পিএইচডি গবেষণাপত্র ও স্নাতকোত্তর থিসিস গবেষণাসংক্রান্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের আবেদনও আবার প্রক্রিয়া করার কথা জানিয়েছে তারা।


নতুন কেন্দ্রীয় বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রক্রিয়া তৈরির জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বার্কলে।


তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, এসব বিধিমালায় নতুন করে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে এই সুবিধাজনক ব্যবস্থার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না।


ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত ও অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচি, জলবায়ু কার্যক্রম এবং তৃতীয় লিঙ্গসংক্রান্ত নীতি।


এসব পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাগত স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


এদিকে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈচিত্র্যবিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছে।


বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগ অভিযোগ করে, প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তাদের দাবি, ভর্তি নীতিমালা আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং এতে কোনো বৈষম্য করা হয়নি।


বিচার বিভাগ এর আগে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে। এসব বিষয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা। আলোচনা ব্যর্থ হলে আদালতে মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করেছে বিচার বিভাগ।


এছাড়া ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভিসাও বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব বিক্ষোভকে প্রশাসন ইহুদিবিদ্বেষী এবং উগ্রপন্থিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে অভিহিত করেছে।


তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা ইহুদি সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকারকর্মী বলছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিরোধিতা করা ইহুদিবিদ্বেষ নয়। তাদের মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে উগ্রপন্থার সমর্থন হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।


শেয়ার করুন