২৮ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ১০:৩৬:২৫ অপরাহ্ন
প্রতিদিন কয়েকটি খাবারেই কমবে ওজন, বাড়বে ত্বকের জেল্লা
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৮-২০২৬
প্রতিদিন কয়েকটি খাবারেই কমবে ওজন, বাড়বে ত্বকের জেল্লা

উৎসব সামনে রেখে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ঝরঝরে হওয়ার পাশাপাশি ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা আনতে চান অনেকেই। তবে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় না খেয়ে থাকা বা ক্রাশ ডায়েট করার ফলে উল্টো ত্বক শুষ্ক, কালচে ও নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, খাবারের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে না দিয়ে খাদ্যতালিকায় এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখা, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও সহায়ক।


শসা ও লেবু দিয়ে তৈরি পানীয় হতে পারে দিনের শুরুতে একটি ভালো বিকল্প। শসায় পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি কম। অন্যদিকে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি এটি খাদ্যতালিকায় একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে।


সকালের খাবারে রাখতে পারেন টক দই। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পাশাপাশি টক দইয়ের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে, ফলে অপ্রয়োজনীয় নাশতা বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের যত্নেও ব্যবহৃত হয়।


দিনে এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি-ও রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে। গ্রিন টিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।


চিয়া সিড ও তিসির বীজও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার হিসেবে রাখা যায়। দুটিতেই রয়েছে আঁশ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। পানিতে ভিজিয়ে খেলে এগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। তিসির বীজ ও চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখে।


কম ক্যালরির খাবার হিসেবে টমেটো ও গাজর সালাদ বা স্যুপে রাখা যেতে পারে। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং টমেটোর লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এসব পুষ্টি উপাদান ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।


বিকেলের নাশতায় ভাজাপোড়া খাবারের বদলে এক মুঠো কাঠবাদাম বা আখরোট খাওয়া যেতে পারে। এসব বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। কাঠবাদামে ভিটামিন ই এবং বাদামে থাকা অন্যান্য পুষ্টি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।


তবে শুধু কয়েকটি খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করলেই দ্রুত মেদ ঝরে যাবে—এমনটা নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম ও ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, ময়দা ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার কমানোও জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


তাই উৎসবের আগে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকার বদলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়াই ভালো। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীর ও ত্বক—দুটিরই যত্ন নেওয়া সম্ভব।


শেয়ার করুন