২৯ অগাস্ট ২০২৬, শনিবার, ১২:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
নেপালে নতুন হ্রদের বাঁধ ভাঙার শঙ্কা, চীনের সতর্কতা
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৭-০৮-২০২৬
নেপালে নতুন হ্রদের বাঁধ ভাঙার শঙ্কা, চীনের সতর্কতা

নেপালে নতুন করে একটি বড় হ্রদ ভেঙে ফের ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে। আগামী কয়েক দিনে আরও বিপুল পরিমাণ পানি প্রবেশ করায় এটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা ছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এতে প্রবেশ করতে পারে। এতে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।


নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে এই বাধহ্রদটি তৈরি হয়েছে। হ্রদটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য বাঁধভাঙনের পরিণতি বুঝতে বন্যার বিভিন্ন পরিস্থিতির সিমুলেশন চালাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।


ছোচেন ও পুরেপু নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের আগে নদী দুটি মিলিত হয়ে পরে ভোতেকোশি নামে প্রবাহিত হয়েছে। ভোতেকোশি নদী ত্রিশূলী নদীর প্রধান উজানের উপনদী।


নতুন এই হুমকির আগে বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং ধ্বংস হয়েছে বিভিন্ন অবকাঠামো।


রাসুয়া জেলার ভোতেকোশি নদীতে বুধবার সকালে হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে বন্যার পানি ত্রিশূলী নদীর দিকে নেমে যায়।


নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালে উদ্ধার অভিযান চলছে। নদীর ভাটির বিভিন্ন জেলায় মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


এর মধ্যে নতুন বাধহ্রদের সৃষ্টি উদ্ধার তৎপরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। হ্রদটির বাঁধ ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে গিয়ে নদী তীরবর্তী জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।


চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হ্রদটির পানি প্রবাহ ও জলবিদ্যাগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য বাঁধভাঙন মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রস্তুতিও চালিয়ে যাওয়া হবে।


শেয়ার করুন