২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:০৭:১১ অপরাহ্ন
ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জেনজি আন্দোলন’, সংহতি জানাচ্ছেন প্রবাসীরাও
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৭-২০২৬
ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জেনজি আন্দোলন’, সংহতি জানাচ্ছেন প্রবাসীরাও

ভারতে চলমান ‘জেনজি আন্দোলন’ রাজধানী দিল্লি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভারতীয়রাও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।




দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান ও পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।



আন্দোলনের প্রভাব দেশের বাইরেও পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে প্রবাসী ভারতীয়রা সমাবেশ করেন। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।



পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।



এদিকে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত সংঘর্ষ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে।



সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।




এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানী দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।



শেয়ার করুন