১০ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ১২:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৭-২০২৬
মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি, হামলা, জমি দখলের চেষ্টা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোসাঃ বিউটি খাতুন।


বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় রাজশাহী নগরীর অলোকার মোড়ের মাস্টার সেফ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।


লিখিত বক্তব্যে বিউটি খাতুন বলেন, ২০২২ সালে আত্মীয়ের অনুরোধে ফয়জুল নেসা বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে তাদের বাসায় আশ্রয় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে টাকা চুরি, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। একাধিকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।


তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ওই তরুণী ও তার পরিবারের অনুরোধে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ৭ লাখ টাকা ধার দেওয়া হয়। পরে তারা ওই টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাওনাদার আদালতে মামলা করেন এবং তিনি ওই মামলার প্রধান সাক্ষী হন। এরপর থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে বলে অভিযোগ করেন। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলা দেওয়া, চাকরি নষ্ট করা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে বিউটি খাতুন অভিযোগ করেন, ফজলুল বারী দুলু, উজ্জ্বল, মুন, পলাশ, সাজ্জাদ , রনি, ইয়াসিন, কামরুল, বৃষ্টি ও আরও কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করছেন। এ-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ বর্তমানে পুলিশ ও পিবিআইতে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী সুফিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তার দাবি, তার কেনা জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয় এবং এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।


তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ১০ জুন তার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বিরোধের জেরে সুফিয়া, তার ছেলে মুন্নাসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় তিনি ও তার স্বামী আহত হন। এ সময় তার মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তার কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ করলে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে থাকলেও একজন এখনো পলাতক রয়েছে বলে তিনি জানান।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, চাকরি নষ্ট করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


এছাড়া তার দাদি শহর বানুকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন বিউটি খাতুন। তিনি বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


এদিকে, এর আগে মোসাঃ বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে উল্লেখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পৃথকভাবে দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনগুলোতে তারা বিউটি খাতুন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বিউটি খাতুন তাদের অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।


সংবাদ সম্মেলনে বিউটি খাতুন প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি বন্ধ এবং তার ও তার পরিবারের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শেয়ার করুন