১০ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ০১:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা: মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের এমডি গ্রেপ্তার
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৭-২০২৬
রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা: মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের এমডি গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ‘মহানন্দা এগ্রোকেয়ার লিমিটেড’–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে নগরের উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসা থেকে বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে একই কোম্পানির চেয়ারম্যান ও আমিনুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আরা খাতুনকেও গত ১২ এপ্রিল রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। ১৭ দিন কারাভোগের পর টাকা দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে গত ২৮ এপ্রিল তিনি আদালত থেকে জামিন পান। রাজশাহী ও রাজশাহীর বাইরে বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছ থেকে কোম্পানির অংশীদারত্ব ও লভ্যাংশ দেওয়ার নামে এই দম্পতি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, আমিনুল ইসলাম ও জেসমিন আরার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীর আদালতে ছয়টি এবং নাটোর, যশোর ও বগুড়ায় একটি করে মামলা চলমান রয়েছে। তাঁরা অংশীদার করা বা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং প্রমাণ হিসেবে চুক্তিপত্র ও চেক সরবরাহ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো লভ্যাংশ বা অংশীদারত্ব দেওয়া হতো না। উল্টো ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের মামলার হুমকি দেওয়া হতো। বর্তমানে বিসিক শিল্পনগরের বি-৩২৭ নম্বর কারখানায় মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের প্রধান কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমনকি ভবনের মালিকও প্রতারণার অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।


এদিকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার ১৭ দিন পর, গত ১৪ মে কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন আরা খাতুন ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই উল্টো হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। এই মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে তেরখাদিয়া এলাকার আলমগীর কবিরকে। আলমগীর কবির নিজেই এই দম্পতির বিরুদ্ধে ৪১ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করেছিলেন, যার মধ্যে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ ও স্বামীর বিরুদ্ধে ৩১ লাখ টাকার মামলা রয়েছে। হত্যাচেষ্টা মামলার অন্য আসামিরাও এই দম্পতির প্রতারণার শিকার ও মামলার বাদী।


জেসমিন আরা তাঁর মামলার আরজিতে দাবি করেন, ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে আসামিরা লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে তাঁর নাক-মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে। তবে ওই রাতেই, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাঁর স্বামী আমিনুল ইসলাম আত্মগোপনে ছিলেন। জেসমিন আরাকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলে জানিয়েছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, থানায় আসার পর জেসমিন আরা মাথা অস্থির লাগছে বলায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তবে চিকিৎসক প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র দিয়েই তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।


গ্রেপ্তার হওয়ার আগে গত মঙ্গলবার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবসা করার জন্য টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিরা আর তাঁর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাননি। তিনি ধীরে ধীরে তাঁদের টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁরা চেক জালিয়াতির মামলা করে চেকে আসল অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি টাকা বসিয়ে দিয়েছেন।

শেয়ার করুন