০২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:১২:২২ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠালেন শিক্ষক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৭-২০২৬
পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠালেন শিক্ষক

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মহাদেব রায় বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক। পরীক্ষা শুরুর আগেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি এক শিক্ষার্থীর কাছে এই প্রশ্নপত্র পাঠান বলে জানা গেছে।


বুধবার (১ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া অংশের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট যাচাই করে এই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।


প্রতিবেদকের হাতে আসা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, “Mahadev Sir” নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে একজন শিক্ষার্থীর কাছে ইংরেজি প্রথম পত্রের ২ নম্বর প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল- “Answer the following questions:


a. What is Mainul Islam’s profession?


b. Why did Mainul Islam choose farming instead of a city job?


c. How do Mainul Islam and his brothers challenge the common belief about educated people’s careers?


d. Why does the writer call Mainul Islam and his brothers ‘torch bearers’?


e. What message does the passage convey to educated young people?”


পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একই প্রশ্ন হুবহু পাওয়া যায়।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন প্রণয়ন করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মহাদেব রায়। বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে শিক্ষক যে বিষয়ে ক্লাস নেন তিনি প্রশ্ন প্রণয়ন করেন, তিনিই প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে খামে সিলগালা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ে সেই সিলগালা খাম খুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। ফলে পরীক্ষা শুরুর আগেই কোনো প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গেলে বা ফাঁসের ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন প্রণয়নকারী শিক্ষকের ওপর বর্তায় বলে বিদ্যালয় সূত্রের দাবি।


এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিন বলেন, ‘মহাদেব বাবুর প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করবো। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তা করা হবে।’


দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’


এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, ‘একজন শিক্ষক যদি প্রশ্নফাঁস করে তাহলে মানসম্পন্ন শিক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে। প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।’


অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, এর আগেও সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়তে ও বিশেষ কোচিং ক্লাসে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হতো। বিষয়টি সে সময় জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


শেয়ার করুন