০৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:৩৮:২৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গু উদ্বেগ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৬-২০২৬
রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গু উদ্বেগ

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার প্রজনন উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


গত মে মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী নগরীর ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সূচক ২০-এর বেশি হলে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়।


জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়া পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারক পাত্রের মধ্যে ২৩ টিতে লার্ভা শনাক্ত হওয়ায় কনটেইনার ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।



স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার সক্রিয় প্রজননের প্রমাণ মিলেছে। বৃষ্টিপাত শুরু হলে এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।


বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে নগরীতে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।


জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা জানান, ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র এবং শিশুদের খেলনার মতো সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রীতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপের ফলাফল ও করণীয় সুপারিশ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, সোমবার বিকেল পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের ওই প্রতিবেদন তাদের হাতে পৌঁছেনি। তা সত্ত্বেও নগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বাসাবাড়ির পানির ট্যাংক, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণসামগ্রীসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরিপে প্রতি ৫টি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারক পাত্রে লার্ভা পাওয়া যাওয়ার ঘটনা মশার উৎস ধ্বংসে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তারা দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।


হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে. বিশ্বাস বলেন, জরিপের ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে এখনই লার্ভা ধ্বংস অভিযান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর নিবিড় নজরদারি শুরু করা প্রয়োজন। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।


শেয়ার করুন