২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:০১:২৮ অপরাহ্ন
কোরবানির পশুর লাথি-গুঁতায় পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন, ১৫ ঘণ্টায় আহত ১৬৮
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৫-২০২৬
কোরবানির পশুর লাথি-গুঁতায় পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন, ১৫ ঘণ্টায় আহত ১৬৮

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাজধানীতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গরুর লাথি, গুঁতা ও দড়ির টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা ও রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো আহত হয়ে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়েছেন আরও ১৬৮ জন, যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।


জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) তথ্য বলছে, সকালে নামাজের পরবর্তী কোরবানি শুরুর পর থেকে এমনই সব ভাঙা কাটা ক্ষত নিয়ে রাজধানীর পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এছাড়াও গেল গেলো ১৫ ঘণ্টায় কোরবানি জানিতো কারণ ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬৮ জন। আর এদের মধ্যে কিছুটা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ৮৯ জনকে ভর্তি নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁও অবস্থিত পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতাল ঘুরে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিত্র দেখা গেছে। 

ঢাকার তুরাগ থেকে আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মামুন তালুকদার। গরুর গোঁতায় হারিয়েছেন বাম হাতের দুই আঙুল। 


তিনি বলেন, ‘অনেক চেতা গরু। অলরেডি কিনে আনার সময় আমাকে তিনবার ফেলে দিয়েছে। তারপর গরুর লগে যুদ্ধ করে আমরা চার পাঁচজন আহত হয়ে বাসায় নিয়ে আসছি। কোরবানির জন্য বের করে গাছের সঙ্গে একটা বান দিয়েছি। আরেকটা বান দেব এমন সময় আমাকে গোতা দিতে গেছে আর আমার হাট টিনে উপর পড়েছে। এমন সময় গরু গুঁতা দেছে, আর আমার দুইটা আঙুল ছিল টিনের উপর, আঙুল দুইটা কেটে পড়ে গেছে।’

হাতের আঙুল ভেঙে নিয়ে এসেছেন মোহাম্মদ তুষার মুফতি। মিরপুর ১ নম্বরের টোলারবাগ থেকে চিকিৎসা নিতে পঙ্গু হাসপাতাল এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, গরু যখন ফালাবে, কিসের পা বাঁধা– পরে টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরু পড়ে গেছে। দড়িগুলো ভালো ছিল না। পিছলা দড়ি। গরু পড়ে যাওয়ার সময় টান দিছে আর আমার হাতে লেগে বাম হাতের একটা আঙুল ফেটে ভেঙে গেছে। 

নিটোর-এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার জীবনানন্দ হালদার বলেন, গতকাল রাত বারোটা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত আমাদের এখানে মোট ১৬৮ জন রোগী এসেছে। আর আজ সকাল থেকে কোরবানি জনিত কারণে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এই মোট রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৮৯ জন। 


তিনি বলেন, আজগুরুতর আহত হয়ে রোগে কম এসেছে। কোরবানি দিতে গিয়ে আঙুল কাটা, রগ কাটা, হাত কাটা, পা কাটা, কোমরে কাটা, এই ধরনের রোগী আসছে। কোরবানি দিতে গিয়ে যে সমস্যাগুলো হয় সেই ধরনের রোগীই বেশি এসেছে। মেজর অ্যাক্সিডেন্টের রোগে গতকাল বেশি ছিল। আবার গতকাল দুজন এক্সপেয়ার করছে (নিহত হয়েছেন)। গতকাল যে পেশেন্ট এসেছে এর মধ্যে কোরবানি জনিত পেশেন্ট ছিল কিছু আর বেশি ছিল মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট পেশেন্ট। 

শেয়ার করুন