১৬ মে ২০২৬, শনিবার, ০৭:০৩:৩৯ অপরাহ্ন
পিরোজপুরে আগুনে ১৭ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৫-২০২৬
পিরোজপুরে আগুনে ১৭ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি দোতলা ভবন পুড়ে গেছে।



শুক্রবার (১৫ মে) রাত প্রায় ১১টার দিকে লাগা এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।


স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১৫ কোটি টাকা।


স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নেছারাবাদ ইউনিটের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পুলিশ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে মৎস্য শিকারের সুতা-রশির মোকাম, কীটনাশক, সার ও মুদি ব্যবসার ১৭টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।


ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বশির হোসেন বলেন, আমার জীবনের সব সঞ্চয় এই দোকানে ছিল। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে দাঁড়াব বুঝতে পারছি না।


কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী রিয়াদ কাজী বলেন, আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি। কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।


জাহাজ ও ট্রলারের দড়ি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরও একই গলিতে ভয়াবহ আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারবার এমন ঘটনা ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে।


বরিশাল বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা কীটনাশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।



নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জানমাল রক্ষায় কাজ করেছেন।


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ারহাট বন্দরে প্রায় দুই হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছরের ২৫ মে একই বন্দরের একই গলিতে ভয়াবহ আগুনে ১৮টি দোকান পুড়ে গিয়েছিল। এবারও আগুনের ঘটনা আগের স্থান থেকে কয়েকশ ফুট দূরত্বে হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


শেয়ার করুন