গত পাঁচ বছরে চীন ২২৫টি বড় ও মাঝারি আকারের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ১৩টি তেলক্ষেত্রে ১০০ মিলিয়ন টনের বেশি মজুত রয়েছে। এছাড়া ২৬টি গ্যাস ক্ষেত্রে ১০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে।
চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০২১-২৫) তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ খাতে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৬৫.৮১ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করা হয়েছে।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত যথাক্রমে ৫১.৭ শতাংশ ও ৪৪.২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গভীর কয়লাভিত্তিক মিথেন গ্যাসের নতুন মজুত ১ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার ছাড়িয়েছে।
২০২৫ সালে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন রেকর্ড ২১ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছায়। একই সময়ে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ২৬০ বিলিয়ন ঘনমিটার ছাড়িয়েছে।
শেল তেল উৎপাদন ৮.৫ মিলিয়ন টনের বেশি এবং শেল গ্যাস উৎপাদন ২৭ বিলিয়ন ঘনমিটারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপ্রচলিত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখন উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চ্যাংকিং তেলক্ষেত্র বর্তমানে দেশটির বৃহত্তম শেল তেল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে দেশটির মোট তেল-গ্যাস উৎপাদন ৪২০ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। এটি চীনের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সাফল্য শুধু মজুত ও উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চীন আরও গভীর ও জটিল এলাকায় অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথও সুগম হয়েছে।

